শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন
ঝিনাইদহ শৈলকূপা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম সংকট বিরাজ করছে।
শৈলকূপা উপজেলায় ১৮২ ( একশত বিরাশি) টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে প্রধান শিক্ষক আছে মাএ ৮৭ (সাতাশি) জন। যার ফলে ৯৫ (পঁচানব্বই) টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ।
এসব প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রম চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে, যা নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চালানো হলেও এতে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, প্রধান শিক্ষক থাকা অত্যন্ত জরুরি। এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা সাময়িকভাবে কিছু শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়েছি, তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। এতে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় বাড়বে এমন ধারণা থেকেই বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। তবে বাস্তবে তারা নিজেরাই পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন বলে দাবি করেন।
আরেকজন শিক্ষক বলেন, অনেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এমন আচরণ করছেন যেন তারা স্থায়ী প্রধান শিক্ষক হয়ে গেছেন। শিক্ষা অফিসে মিটিং থাকলে তারা সারাদিন স্কুলে থাকেন না। ফলে সেদিন তাদের নির্ধারিত ক্লাস বন্ধ থাকে। এমন ঘটনা প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কয়েকদিন ঘটে।
এতে করে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে সঠিক তদারকি না থাকায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
শৈলকুপা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রধান শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে সাময়িকভাবে কার্যক্রম চালানো সম্ভব হলেও এতে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
নিয়মিত তদারকির অভাব, ক্লাস বন্ধ থাকা এবং প্রশাসনিক ব্যস্ততায় শিক্ষকদের অনুপস্থিতি সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষতির মুখে পড়ছে। দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট নিরসন এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপই পারে শৈলকুপার প্রাথমিক শিক্ষায় শৃঙ্খলা ও মান ফিরিয়ে আনতে।