
গাজীপুরের টঙ্গীতে সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে নতুন উদ্যমে আবারও যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে “ইচ্ছের হাসি প্রাথমিক বিদ্যালয়”। মানবিক সংগঠন “স্মাইল সিক্রেট অফ ইউর হ্যাপিনেস” গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি ও তরুণ সমাজকর্মী খাদিজা আক্তার মৌমির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষামূলক ও আনন্দঘন আয়োজন, যেখানে পথশিশুদের নিয়ে গল্প, খেলাধুলা, পাঠদান ও বিনোদনের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয় এক নির্মল ও ভালোবাসাময় পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে শিশুদের মাঝে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন উপহারসামগ্রী ও আনন্দ উপকরণ। পুরো আয়োজনজুড়ে শিশুদের উচ্ছ্বাস, হাসি আর প্রাণবন্ত উপস্থিতি যেন বারবার মনে করিয়ে দেয় একটু ভালোবাসা, যত্ন ও সহযোগিতা পেলেই তারাও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শেখে।
খাদিজা আক্তার মৌমি বলেন, সমাজের প্রতিটি শিশুরই সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। তাদের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই, কোনো শিশুই যেন দারিদ্র্য কিংবা অবহেলার কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।
জানা যায়, “স্মাইল সিক্রেট অফ ইউর হ্যাপিনেস” দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গী রেল স্টেশন পাশে গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির অন্যতম মানবিক উদ্যোগ হিসেবে ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় “ইচ্ছের হাসি প্রাথমিক বিদ্যালয়”। শুরু থেকেই বিদ্যালয়টি পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে আসছিল।
দীর্ঘ চার বছর সফলভাবে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম পরিচালিত হলেও অর্থনৈতিক সংকট ও নানা প্রতিকূলতার কারণে ২০২৩ সালে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে থেমে থাকেনি স্বপ্ন কিংবা মানবিক প্রচেষ্টা। দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে গত ১ মে ২০২৬ থেকে টঙ্গী রেল স্টেশন প্রাঙ্গণে প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে নতুন সাজে সাজছে ও নতুন প্রত্যয়ে বিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
বিদ্যালয়টির পুনরায় যাত্রা শুরুতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সংগঠনের পুরোনো সদস্য মেহেদি হাসান অন্তর। তিনি শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
খাদিজা আক্তার মৌমি আরও বলেন, অসংখ্য সীমাবদ্ধতা ও কষ্টের মাঝেও আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এই দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের লেখাপড়া নিশ্চিত করতে। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ যদি পাশে দাঁড়ান, তাহলে এই শিশুদের ভবিষ্যৎ আরও সুন্দর হবে। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।
স্থানীয় সচেতন মহল এমন মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সমাজের সবাই এগিয়ে এলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও একদিন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে দেশের সম্পদে পরিণত হবে।