
ঢাকার দোহার উপজেলায় অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ের
জন্য জনজীবনে নেমে এসেছে বিপর্যয়। প্রতিদিনই বাড়ছে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা। আবাসিক থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবখানেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দোহার পল্লিবিদ্যুৎ অফিসের দাবি, গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকায় এ ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তাপমাত্রা কমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের কথা বলছেন তারা।
দোহারে ঢাকা পল্লীবিদ্যুতের অধীনে প্রায় ৮৫ হাজার গ্রাহক সেবা গ্রহণ করে থাকে। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলে সরবরাহ পাচ্ছে অর্ধেকের কম। যে কারণে ২৪ ঘণ্টায় এলাকাভিত্তিক ১২ ঘণ্টারও কম সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে। একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় কাজকর্মে সময় মতো বিদ্যুৎ না পাওয়াতে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবনে নেমে এসেছে অস্থিরতা।লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্যাংক, ওয়েল্ডিং কারখানা, ফটোকপি মেশিন, রাইস মিল, কাপড় ইস্ত্রি, সেচ পাম্প, অনলাইন সেবা প্রতিষ্ঠান, ট্রেনিং সেন্টার মারাত্মক সব চেয়ে ক্ষতির মধ্যে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা । বিদ্যুতের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।
বিদ্যুৎ অফিসের তথ্যমতে, দোহার পল্লী বিদ্যুতের ৫টি ফিডারের অধীনে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়ে থাকে। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুতের সরবরাহ থাকলেও অন্য এলাকায় অতিরিক্ত লোডশেডিং হয়ে থাকে। রাইপাড়া, শিলাকোঠা ও নারিশা ফিডারে বিদ্যুৎ কম সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ অনেক পুরনো। এসব এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সারাদিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। যে কারণে দুঃসহ গরম সহ্য করে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা গরমের সীমাহীন কষ্ট ভোগ করছে।উপজেলার প্রায় ৬০টির মতো ওয়েল্ডিং ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে। যেখান থেকে প্রতি মাসেই ইন্টারভিউ দিয়ে বিদেশে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়বে বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা।বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে শ্রমজীবী মানুষজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ উপজেলার বহু মানুষ ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালিকা জীবিকা নির্বাহ করে থাকে এরা পরেছে বিপাকে।
এ বিষয়ে ঢাকা পল্লীবিদ্যুতের দোহার জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. বাদল মিয়া এ প্রতিবেদককে জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস, ফার্নেস ওয়েল ও পেট্রোলের ব্যবহার হয়ে থাকে। যুদ্ধের জন্য এগুলো সময়মতো দেশে না আসার কারণে সংকট তৈরি হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে এ ব্যাপারে আমরা কিছুই বলতে পারছি না। বিদ্যুৎ না থাকলে সবারই কমবেশি সমস্যা হয়ে থাকে এবং সরাসরি বিদ্যুতের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।