শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন
মৌসুম বদলায়, বদলায় প্রকৃতির রূপ। কিন্তু জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। শিমুলতলা থেকে মুক্তা চেয়ারম্যান বাড়ি মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত কাঁচা রাস্তাটি এখন স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘশ্বাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের পর বছর ধরে শুকনো মৌসুমে ধুলোর ঝড়ে অন্ধ হতে হয় পথিককে, আর বর্ষা এলে হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়ে চলাই যেন এখানকার মানুষের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে রাস্তাটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, সাধারণ মানুষের চলাচলের ন্যূনতম পরিবেশও অবশিষ্ট নেই। শুকনো মৌসুমে রাস্তাটি মরুভূমির ধুলোবালির মতো রূপ নেয়, ফলে যানবাহন চললে ধুলোর কুণ্ডলীতে আশপাশের বাড়িঘর ও দোকানপাট আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে পথচারীদের পাশাপাশি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। আবার বৃষ্টির দেখা দিলেই চিত্রটি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। কাঁচা মাটির রাস্তাটি তখন কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল মরণফাঁদে পরিণত হয়, যেখানে ভ্যান বা রিকশা তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক এবং অসুস্থ রোগীরা যাতায়াত করেন। বিশেষ করে জরুরি কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই কর্দমাক্ত পথটি এখন সবথেকে বড় বাধা। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ পরিবহন খরচ। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ এখন আকাশচুম্বী।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, রাস্তাটির দুরবস্থার বিষয়ে তারা অবগত আছেন। তবে এখনই কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে নতুন কোনো প্রকল্প আসলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই রাস্তাটির পাকাকরণের কাজ ধরা হবে।
কর্তৃপক্ষের এমন গতানুগতিক আশ্বাসে আর আশ্বস্ত হতে পারছেন না এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে যেন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শিমুলতলা ও মুক্তা চেয়ারম্যান বাড়ি মোড় এলাকার বাসিন্দারা এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন একটি পাকা রাস্তার আশায়, যা তাদের জীবনযাত্রাকে কাদা-ধুলোর অভিশাপ থেকে মুক্তি দেবে।