শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন
নফস যখন রিজিকের ভয় দেখায়
শের ই গুল
নফসের বড় একটি দোষ হলো; সে রিযিক নিয়ে অতি মাত্রায় চিন্তিত থাকে, অথচ আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং বান্দার রিযিকের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।অন্যদিকে, ফরজ আমলগুলো আদায় করা একান্তই বান্দার দায়িত্ব। এটি এমন এক ঋণ যা অন্য কেউ শোধ করতে পারবে না। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রধানতম দায়িত্বের ব্যাপারেই নফস সবচেয়ে বেশি গাফেল!এর প্রকৃত চিকিৎসা হলো, আমাদের অন্তরে এই দৃঢ় বিশ্বাস লালন করতে হবে যে, যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আমাদের রিযিকের জোগান দেবেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,“আল্লাহ সেই সত্তা, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদের রিযিক দান করেছেন।” (সূরা আর-রুম: ৪০)সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে তিনি যেমন কারো মুখাপেক্ষী নন, তেমনি রিযিকের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রেও তিনি কারোর মুখাপেক্ষী নন।
বিখ্যাত বুযুর্গ হাতিম আল-আসম (রহ.) বলেন:প্রতিদিন সকালে শয়তান আমার মনের ভেতর কুমন্ত্রণা দিয়ে বলে,“আজ তুমি কী খাবে? কী পরবে? কোথায় থাকবে?”তখন আমি তাকে কড়া জবাব দিয়ে বলি,
“আমি মৃত্যু খাব (মৃত্যুর স্বাদ নেব), কাফন পরব, আর কবরে বাস করব!”যে ব্যক্তি আখিরাতকে চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে সামনে রাখে, তার কাছে দুনিয়ার অভাব আর দুশ্চিন্তা তুচ্ছ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে, যে কেবল দুনিয়ার রিযিক নিয়েই ব্যতিব্যস্ত থাকে, সে তার জীবনের মূল উদ্দেশ্য (আল্লাহর ইবাদত) ভুলে বসে।
আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে নফসের চক্রান্ত থেকে হেফাজত করুন। আমাদেরকে আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ তাওয়াক্কুলের তাওফিক দান করুন। আমিন
সূত্র: উয়ুবুন নফস — আবু আব্দুর রহমান আস সুলামি রহ.