
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের অসমাপ্ত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কারণে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসন এবং সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের প্রতিবাদে গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকায় মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১০টায় গাজীপুর মহানগরীর বোর্ড বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধন শেষে কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করা হলে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিআরটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি বোর্ড বাজার এলাকায় একটি নিরাপদ ওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস নির্মাণের জোর দাবি জানান।
কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন গাছা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন খান। তিনি বলেন, “বিআরটি প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিশেষ করে বোর্ড বাজার এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, এতে নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস না থাকায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার করছে। এ অবস্থার দ্রুত সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর রাজু, সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রহিম খান কালা, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা হারুন অর রশিদ খান, বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেম, ইঞ্জিনিয়ার আজহার খন্দকার, নজরুল ইসলাম মোড়ল, মো. জয়নাল আবেদীন তালুকদার, আলম মাস্টার, শরিফ সরকার ও ইউসুফ সরকারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে বিআরটি প্রকল্পটি বারবার পিছিয়ে পড়ে। একাধিকবার মেয়াদ বৃদ্ধির পরও কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সরকার পরিবর্তনের পর প্রকল্পটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমান সরকারও এখনো এ বিষয়ে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় অসমাপ্ত অবকাঠামোর কারণে জনভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে।
তারা দ্রুত প্রকল্পটি পুনরায় চালু করে কাজ সম্পন্ন এবং বোর্ড বাজার এলাকায় নিরাপদ পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।