শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন জনপ্রিয় এডভোকেট এবং বিএনপির পক্ষে সব সময় তর্কে বিতর্কে যিনি ভূমিকা রাখেন যাকে বিএনপির এক নিষ্ঠ কর্মী বলা হয় চট্টগ্রাম আদালতে সেই অ্যাডভোকেট হাসনা হেনা । কিন্তু দল তাকে মনোনীত করেনি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন জমা দেয়ার সময় তিনি বলেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এই সংগঠন টিকে আমি আমার জীবনের চেয়েও ভালোবাসি তারা যদি ত্যাগী এবং ভালো মানুষের মূল্যায়ন করে তাহলে আমি খুব কৃতজ্ঞ থাকব ।
দলের প্রতি আনুগত্যের কথা তুলে ধরেন এডভোকেট হাসনা হেনা। যা দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো—
আমি বিশ্বাস করি, সব ফয়সালার কারিগর আল্লাহ রহমানুর রহীম। আর যেকোনো রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত দলের সম্মানিত নীতিনির্ধারকদের। তাদের প্রতি আমি পূর্ণ আস্থা এবং সম্মান রাখি। আপনারা জানেন অথবা কেউ কেউ জানেন না যে আমি আজীবন মানুষের পাশে থেকেছি আমার সাধ্যমতো।
আমার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ২০০১ সালে। আমাদের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার অনুপ্রেরণায় আমাকে রাজনীতিতে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। আমি তার কথা বেদবাক্য হিসেবে মেনে নিয়ে কাজ শুরু করি।
বলা বাহুল্য, সেই যাত্রা সহজ ছিল না। ছিল বিপৎসংকুল এবং আমার জন্য দুরূহ। আমি এবং আমার আল্লাহ জানেন, আমার সীমিত ক্ষমতা দিয়ে এই লড়াই চালানোর চেষ্টা করে গেছি। আমি একজন রাজনৈতিক মনের মানুষ, আমার পিতা অ্যাডভোকেট মহসিন ভূঁইয়া ছিলেন ৯০ দশকের বিএনপি’র অন্যতম একজন কান্ডারী । কোট আদালত চত্বর থেকে শুরু করে নাসিরাবাদ ঢাকা ১০ আসন উত্তর চট্টগ্রাম রাজধানী ঢাকায় তাকে চিনেন না এমন কেউ নেই । বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাকে খুব ভালো জানতেন। ছোটবেলা থেকেই বিএনপির আদর্শ আর পিতার স্নেহ এবং পরামর্শে রাজনৈতিকভাবে বড় হয়েছি।
২০০১ এর পরে পুরো কাজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল এবং নেত্রীর আদেশ আমি পালন করেছি।
তারপর দীর্ঘ অনেক বছর বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি তা বর্ণনাতীত। বিগত আমলে আমরা নেতাকর্মীরা নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছি, কেউ জেল খেটেছে, কেউ মামলা খেয়েছে। আর আমি? আমি মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছি। বাংলাদেশের মাটিতে যেখানে আমি বেড়ে উঠেছি সেখানে আমার আইনজীবী সনদপত্রটি পর্যন্ত স্থগিত করেছিল তৎকালীন বিতর্কিত সরকার । আমি নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য এবং আমার পারিবারিক শিক্ষা থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষের সেবা এবং করোনার মহামারীতে মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলা বিনা খরচায় চালিয়ে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।
আমি সবার ক্ষতিকেই ক্ষতি হিসেবে দেখি, তাদের ত্যাগকে মূল্যায়ন করি, কিন্তু আমার এই যে ক্যারিয়ার হারানো, নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কোনো স্বীকৃতি কি আমি পেতে পারি না?
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতিক্রমে এলাকায় কাজ শুরু করি। বছরজুড়ে নিজের দলের ভেতরের বাধাবিপত্তি পেরিয়ে নিরলস কাজ করেছি; । অনেকে অনেক কথা বলেছে সে জন্য কে কী ভাবলো তাতে আমার কিছু আসে-যায় না। দলের প্রতি আমার আনুগত্য ১০০ পার্সেন্ট।
দলের যে কারো অধিকার আছে নমিনেশন চাওয়ার এবং যে কেউ নিজেকে যোগ্য মনে করারও অধিকার রাখে। আবার দলের নীতিনির্ধারকদেরও বিধান আছে যাচাই-বাছাই করে সঠিক মানুষকে বেছে নেওয়ার। অতএব, নমিনেশন ফরম কেনার দুয়ার সবার জন্য খোলা বলাই বাহুল্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহ নীতি নির্ধারক সবার নিকট একটি আবেদন যাদের কে মনোনীত করবেন সত্যিই যেন বিএনপির জন্য যারা নিবেদিত প্রাণ ছিল যারা ত্যাগ করেছে দুর্দিনে আন্দোলন করেছে দুর্দিনে বিএনপির রাজনীতিকে ধরে রেখেছে তাদের কথা সবার আগে ভাবার জন্য অনুরোধ রইল ।। এডভোকেট হাসনাহেনা চট্টগ্রাম ।।