শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
জাতীয় স্মৃতিসৌধে আশুলিয়া থানা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত আওয়ামী প্রতিহিংসার শিকার তিতাস গ্যাস কর্মচারী শ্রমিক দল নেতা চাকরিচ্যুত শওকত ইমামের মানবেতর জীবনযাপন। বাকেরগঞ্জে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মালিকানার সংকট পঞ্চগড়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রম শক্তিশালী করতে অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। রাজশাহী প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে রাসিক প্রশাসকের মতবিনিময় নির্মাণাধীন মসজিদুল আকবর কমপ্লেক্সের ছাঁদ ধসে ক্ষয়ক্ষতি ! কন্ট্রাকটর ও প্রকৌশলীর গাফিলতির অভিযোগ !! প্রেমের অনন্য উপাখ্যান: কাপাসিয়ায় মালয়েশিয়ান তরুণী হাফিজা ও রাকিবের বিয়েতে নায়িকা প্রিয়াংকা ফোরকান মাস্টারকে ঘিরে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সত্য, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে এলাকাবাসীর আহ্বান গংগাচড়ায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কার্যকরী পরিষদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত মানবিক সহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জি.আর চাল বিতরণ কোরবানির ঈদে পশুর সংকট নেই, ভারতীয় গরু ঠেকাতে কঠোর নজরদারি: সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আমীরসহ তিন মরহুমের জানাজায় শোকাবহ পরিবেশ কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে মিকাইল বিশ্বাসকে ঠেকানো যাবে না বললেন এলাকার সাধারণ জনগণ গাজীপুরে জুতা কারখানায় আগুন ভোলায় ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, ৩ মাস ৭দিনের কারাদণ্ড। আত্রাইয়ে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন মুরাদনগরে মাদকবিরোধী অভিযানে বিদেশি মদ, ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ আটক ২ গাজীপুরে টিকটক করতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল ২ এসএসসি পরীক্ষার্থীর গাজীপুরে আলোচিত ৫ খুন: সেই ফোরকানের মরদেহ উদ্ধার পদ্মা নদীতে ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার চাল বিতর অনিয়মে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা গাজীপুরের তুরাগ নদীতে তলিয়ে যাওয়া বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই কিশোরের মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত নূরনবীকে দেখতে জনতার ভিড়! বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোসলেহ, সম্পাদক শামীমা পারভীন রাণীশংকৈলে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষক কিশোর গ্রেপ্তার প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের আস্থাভাজন ছাত্রনেতা তানভীর অসুস্থ, দোয়া কামনা ২০৬ পিস ইয়াবাসহ ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর পৃথক অভিযানে গ্রেফতার ৫ মাদক ব্যবসায়ী সাতকানিয়ায় ২স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আটক-৪!ভিকটিমদেরকে উদ্ধার। আটিগ্রাম ভূমি অফিসের ছত্রছায়ায় চলছে অবৈধ ড্রেজার ও মাটি বাণিজ্য কৃষিজমি ধ্বংসের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ স্থানীয়দের
জরুরী নোটিশ :
জরুরী নোটিশ এবং সতর্কবার্তা ""গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক  মিডিয়া ভুক্ত পত্রিকা দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশে কর্তব্যরত সকল সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।  কিছু কুচুক্তি মহল বিভিন্ন গণমাধ্যমের আইডি কার্ড নকল করে বিভিন্ন প্রকার অপরাধে জড়াচ্ছে কিছুদিন পর পর পত্রিকার এসব খবরে আমরা বিভ্রান্ত। এরকম বেশ কয়েকজন অপরাধী দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার আইডি কার্ড নকল করেছে এমন প্রমাণিত হওয়াতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে  তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। এবং সংবাদ প্রকাশ করে এসব অপরাধীদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই বলে আমরা ঘোষণা দিয়েছি।  সেই সাথে আমরা আমাদের প্রদত্ত বিগত দিনের সকল আইডি কার্ড পরিবর্তন করে স্ক্যানিং কোড সিস্টেম করে নতুন আঙ্গিকে আইডি কার্ড তৈরি করেছি।  দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশে কর্তব্যরত সকল সাংবাদিকদের কে সম্মানের সাথে জানাচ্ছি আপনারা  আপনাদের পুরনো আইডি কার্ড পত্রিকা অফিসে জমা দিয়ে সেই সাথে নতুন করে ভোটার আইডি কার্ড এবং  আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদের সত্যায়িত ফটোকপি সহ জমা দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন আইডি কার্ড সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশ দেয়া গেল। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশ যারা অমান্য করবে তাদেরকে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃত বলে গণ্য করবেন। আপনাদের জ্ঞাতার্থে আরও জানাচ্ছি যে  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশক্রমে সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মান নির্ণয় সহ সাংবাদিকদের ডাটাবেজ তৈরি করছেন, মাননীয় সাবেক বিচারপতি প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ইতিমধ্যে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। পুনরায় আপনার ভোটার আইডি কার্ড এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা অভিজ্ঞতার সনদ সকল কিছু সত্যায়িত করে নতুনভাবে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার   কর্তৃপক্ষকে জমা দিয়ে পুরনো কার্ডটি ফেরত দিয়ে নতুন আইডি কার্ড নেওয়ার জন্য নির্দেশ রইল।  আদেশক্রমে --আব্দুল্লাহ আল মামুন--প্রকাশক ও সম্পাদক--দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ ।

দেশে মাদক কেনাবেচা বৃদ্ধিতে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে মাদকাসক্ত

শের ই গুল : / ৩৫ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন

শের ই গুল :

(প্রভাবশালী ৫০০ গডফাদারের তত্ত্বাবধানে দুই লাখ ৭৫ হাজার পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার সমন্বয়ে দেশব্যাপী মাদক-বাণিজ্যের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে) উঠেছে।

লুকোচুরি নয়, বরং প্রকাশ্যেই বেচাকেনা চলছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ সব ধরনের মাদকদ্রব্য। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও পুলিশের পৃথক পরিসংখ্যান সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী ৫০০ গডফাদারের তত্ত্বাবধানে দুই লাখ ৭৫ হাজার পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার সমন্বয়ে দেশব্যাপী মাদক-বাণিজ্যের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।
সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ, প্রশাসনিক দৌড়ঝাঁপ আর অসংখ্য মামলা-হয়রানির মধ্যেও দেশে জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। মাদকের কেনাবেচাও বেড়ে চলেছে পাল্লা দিয়ে। দেশের প্রতিটি সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু করে খোদ রাজধানীতেও বসছে মাদকের খোলা হাটবাজার। এ চক্রের সদস্যরা ঘাটে ঘাটে টাকা বিলিয়ে সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়। মাঝেমধ্যে কোথাও কোথাও প্রশাসনিক অভিযান পরিচালিত হলেও তা মাদক নেটওয়ার্কে কোনো রকম ব্যাঘাত ঘটাতে পারে না। বরং পুলিশের পাঁচ শতাধিক সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের সহস্রাধিক রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে উল্টো মাদক-বাণিজ্যে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মাদকাসক্তি নিরাময়ের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত বিশেষজ্ঞরা ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে দুই কোটি লোক নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, প্রতি বছর শুধু নেশার পেছনেই খরচ ৬০ হাজার কোটি টাকা যা গাণিতিক হারে প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । সংশ্লিষ্টরা এই মুহূর্ত থেকেই পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে দেশজুড়ে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তারা বলেন, অন্যথায় দেশের যাবতীয় অগ্রগতি নেশার আগ্রাসনের কাছে ম্লান হতে বাধ্য। সারা দেশে র্যাব, পুলিশ, বিজিবিসহ মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের অব্যাহত অভিযান সত্ত্বেও মাদকের আগ্রাসী থাবা বন্ধ হচ্ছে না। সরকারি কঠোর পদক্ষেপের মধ্যেও মাদক ব্যবসায়ীরা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সচল রয়েছে তাদের সরবরাহ ব্যবস্থাও। মাদক আমদানি, সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে একের পর এক কৌশল পাল্টাচ্ছে তারা। এসব নিত্যনতুন কৌশলে পাচার হওয়া মাদক ধরতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। ইদানীং বাকপ্রতিবন্ধীদের মাধ্যমেও পাচার হচ্ছে ইয়াবা। এতে ইয়াবাসহ বিভিন্ন বাক প্রতিবন্ধী বোবা অন্ধরা ধরা পড়লেও তারা মূল মাদক ব্যবসায়ীর নাম-পরিচয় কিছুই জানাতে পারছে না, দিতে পারছে না স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি। অন্যদিকে একশ্রেণির হিজড়া আনা-নেওয়া করছে ফেনসিডিল। এ ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্টিকার, সাংবাদিক পরিচয় এ সাংবাদিকের ক্যামেরা সহ সাংবাদিকের ক্যামেরার স্ট্যান্ড এবং তাদের স্টিকার যুক্ত গাড়ি ব্যবহার করেও মাদক আনা নেওয়া হচ্ছে।জেলা প্রশাসন ও পুলিশের স্টিকার লাগানো গাড়ি ব্যবহার করেও মাদক পাচার করছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের অভ্যন্তরীণ ৪৭টি রুটের যানবাহন ও ট্রেনে অবাধে আনা-নেওয়া চললেও খুবই সীমিত পরিমাণ মাদক আটক করতে পারছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর সর্বত্রই মাদক ব্যবসায়ী আর নেশাখোরদের চলছে দাপুটে তত্পরতা। গত বছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রেকর্ডপত্রে নগরীতে ৬৫০ টি মাদক স্পট ছিল। এখন সে সংখ্যা বেড়ে হাজারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে ভারত থেকে ফেনসিডিলের পাশাপাশি বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট আসছে মুড়ি-মুড়কির মতো। প্রতিদিন ট্রেন, বাস ও ট্রাক ব্যবহার করে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, মাদক ইনজেকশন, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, মদ, বিয়ারসহ ১১ ধরনের নেশাজাত দ্রব্যের পাইকারি চালান ঢাকায় এসে পৌঁছাচ্ছে। মাদকের চালান যাচ্ছে অন্য জেলাগুলোতেও। এ ছাড়া কক্সবাজার-চট্টগ্রাম থেকে সমুদ্রপথে মরণনেশা ইয়াবার চালান যায় বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী উপকূলের ঘাটে ঘাটে। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনায় মাদক পৌঁছায় নৌপথে। গত কয়েক দিন দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ সংগৃহীত তথ্যাদি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও পুলিশের রেকর্ড ঘেঁটে এসব খবর পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, থানা পর্যায়ে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে শীর্ষে রয়েছে গাজীপুরের টঙ্গী থানার নাম। সেখানে প্রতিদিন কোটি টাকার নেশাপণ্য পাইকারি ও খুচরা আকারে কেনাবেচা হয়। পাঁচ শতাধিক পয়েন্টে বসে নেশা সেবনের আসর। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা মিলিয়ে এ থানা এলাকায় প্রায় ১০০০ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এদিকে পুলিশের রেকর্ডপত্র অনুযায়ী দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সফলতা দেখিয়েছে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানা এলাকা। সেখানে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের বাসিন্দাদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে মাত্র দুই বছরে থানার বেশির ভাগ এলাকা মাদকমুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মাদকে লেনদেন ৬০ হাজার কোটি টাকা : দেশে মাদকাসক্তকে ঘিরে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা লেনদেনের বহুমুখী ধান্দা-বাণিজ্য চলছে। মাদক আমদানি, বেচাকেনা, চোরাচালান, মাদক নিরাময় কেন্দ্রসমূহের বেপরোয়া বাণিজ্য, মাদক প্রতিরোধের নামে আড়াই শতাধিক এনজিওর বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহের বছরব্যাপী নানা অভিযান, মামলা পরিচালনাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এই বিপুল অঙ্কের টাকার লেনদেন ঘটে থাকে। আইসিডিডিআরবির সমীক্ষায় বলা হয়, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির মাদক ব্যবহারজনিত ব্যয় বছরে ৫৬ হাজার ৫৬০ টাকা থেকে ৯০ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। সে হিসাবে ৭৫ লাখ মাদকসেবী বছরে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে থাকে। এর সঙ্গে মাদক নিরাময় কেন্দ্র, এনজিও কার্যক্রম ও সরকারি কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয় বলে জানা গেছে। তবে গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাদকাসক্ত ব্যক্তির বার্ষিক গড় ব্যয় আড়াই লাখ টাকা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর শুধু ভারত থেকেই অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকার মাদক আমদানি হয়ে থাকে। ফ্যামিলি হেলথ ইন্টারন্যাশনালের পরিসংখ্যানে বলা হয়, প্রতিবছর ভারত থেকে শুধু ফেনসিডিলই আসে তিন হাজার ৪৭ কোটি টাকার। দেশজুড়ে ইয়াবা আসক্তের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এখন মাদক বাবদ সবচেয়ে বেশি টাকা পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে। প্রতিদিন মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন চোরাচালান পথে ৩০ লক্ষাধিক পিস ইয়াবা দেশে ঢুকছে বলে বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা গেছে। সে হিসাবে শুধু ইয়াবা বাবদ প্রতিবছর অন্তত মিয়ানমারেই পাচার হয়ে থাকে ১৩ হাজার কোটি টাকা।
মাদকাসক্ত নিরাময়ের নামে একটি চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অথচ ওই সব কেন্দ্রের অধিকাংশের বৈধ কোনো অনুমোদন নেই, নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। এসব স্থান থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারার নজিরও নেই। সেবামূলক প্রতিষ্ঠান আখ্যায়িত করে কেউ কেউ সমাজসেবা অধিদফতর, ঢাকা সিটি করপোরেশন বা মানবাধিকার সংগঠনগুলো থেকে অনুমোদন নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছে। রাজধানীসহ সারা দেশে মাদক নিরাময়ের নামে এমন ১২ শতাধিক প্রতিষ্ঠান অভিনব বাণিজ্য ফেঁদে বসেছে। ৪ ফুট বাই ১০ ফুট আয়তনের একেকটি বদ্ধকক্ষে মাদকাসক্তকে মাসের পর মাস আটক রেখে তার ওপর চালানো হচ্ছে নানা বর্বরতা। এ অমানবিকতার বিল বাবদ একেকজনের পরিবার থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে ৪০-৫০ হাজার টাকা। প্রায়ই এসব কেন্দ্র থেকে হাত-পা বাঁধা, সারা দেহ থেঁতলানো অবস্থায় লাশ উদ্ধারের ঘটনাও ঘটে।
অন্যদিকে ভারত থেকে ফেনসিডিলের পাশাপাশি বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট আসছে মুড়ি-মুড়কির মতো। প্রতিদিন ট্রেন, বাস ও ট্রাক ব্যবহার করে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, মাদক ইনজেকশন, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, মদ, বিয়ারসহ ১১ ধরনের নেশাজাত দ্রব্যের পাইকারি চালান ঢাকায় এসে পৌঁছাচ্ছে। মাদকের চালান যাচ্ছে অন্য জেলাগুলোতেও। এ ছাড়া কক্সবাজার-চট্টগ্রাম থেকে সমুদ্রপথে মরণনেশা ইয়াবার চালান যায় বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী উপকূলের ঘাটে ঘাটে। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনায় মাদক পৌঁছায় নৌপথে। গত কয়েক দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সংগৃহীত তথ্যাদি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও পুলিশের রেকর্ড ঘেঁটে এসব খবর পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, থানা পর্যায়ে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে শীর্ষে রয়েছে গাজীপুরের টঙ্গী থানার নাম। সেখানে প্রতিদিন কোটি টাকার নেশাপণ্য পাইকারি ও খুচরা আকারে কেনাবেচা হয়। পাঁচ শতাধিক পয়েন্টে বসে নেশা সেবনের আসর। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা মিলিয়ে এ থানা এলাকায় প্রায় ৬০০ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এদিকে পুলিশের রেকর্ডপত্র অনুযায়ী দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সফলতা দেখিয়েছে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানা এলাকা। সেখানে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের বাসিন্দাদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে মাত্র দুই বছরে থানার বেশির ভাগ এলাকা মাদকমুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মাদকে লেনদেন ৬০ হাজার কোটি টাকা : দেশের ৭০ লাখ মাদকাসক্তকে ঘিরে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা লেনদেনের বহুমুখী ধান্দা-বাণিজ্য চলছে। মাদক আমদানি, বেচাকেনা, চোরাচালান, মাদক নিরাময় কেন্দ্রসমূহের বেপরোয়া বাণিজ্য, মাদক প্রতিরোধের নামে আড়াই শতাধিক এনজিওর বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহের বছরব্যাপী নানা অভিযান, মামলা পরিচালনাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এই বিপুল অঙ্কের টাকার লেনদেন ঘটে থাকে। আইসিডিডিআরবির সমীক্ষায় বলা হয়, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির মাদক ব্যবহারজনিত ব্যয় বছরে ৫৬ হাজার ৫৬০ টাকা থেকে ৯০ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। সে হিসাবে ৭৫ লাখ মাদকসেবী বছরে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে থাকে। এর সঙ্গে মাদক নিরাময় কেন্দ্র, এনজিও কার্যক্রম ও সরকারি কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয় বলে জানা গেছে। তবে গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাদকাসক্ত ব্যক্তির বার্ষিক গড় ব্যয় আড়াই লাখ টাকা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর শুধু ভারত থেকেই অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকার মাদক আমদানি হয়ে থাকে। ফ্যামিলি হেলথ ইন্টারন্যাশনালের পরিসংখ্যানে বলা হয়, প্রতিবছর ভারত থেকে শুধু ফেনসিডিলই আসে তিন হাজার ৪৭ কোটি টাকার। দেশজুড়ে ইয়াবা আসক্তের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এখন মাদক বাবদ সবচেয়ে বেশি টাকা পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে। প্রতিদিন মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন চোরাচালান পথে ৩০ লক্ষাধিক পিস ইয়াবা দেশে ঢুকছে বলে বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা গেছে। সে হিসাবে শুধু ইয়াবা বাবদ প্রতিবছর অন্তত মিয়ানমারেই পাচার হয়ে থাকে ১৩ হাজার কোটি টাকা।

মাদকাসক্ত নিরাময়ের নামে একটি চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অথচ ওই সব কেন্দ্রের অধিকাংশের বৈধ কোনো অনুমোদন নেই, নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। এসব স্থান থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারার নজিরও নেই। সেবামূলক প্রতিষ্ঠান আখ্যায়িত করে কেউ কেউ সমাজসেবা অধিদফতর, ঢাকা সিটি করপোরেশন বা মানবাধিকার সংগঠনগুলো থেকে অনুমোদন নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছে। রাজধানীসহ সারা দেশে মাদক নিরাময়ের নামে এমন ১২ শতাধিক প্রতিষ্ঠান অভিনব বাণিজ্য ফেঁদে বসেছে। ৪ ফুট বাই ১০ ফুট আয়তনের একেকটি বদ্ধকক্ষে মাদকাসক্তকে মাসের পর মাস আটক রেখে তার ওপর চালানো হচ্ছে নানা বর্বরতা। এ অমানবিকতার বিল বাবদ একেকজনের পরিবার থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে ৪০-৫০ হাজার টাকা। প্রায়ই এসব কেন্দ্র থেকে হাত-পা বাঁধা, সারা দেহ থেঁতলানো অবস্থায় লাশ উদ্ধারের ঘটনাও ঘটে।

 

দেশের বিভিন্ন সীমান্ত গলিয়ে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, আফিম থেকে শুরু করে সব ধরনের নেশাজাত সামগ্রী অবাধে পাচার হয়ে আসে। সেসব স্থানে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী আর প্রশাসনিক শক্তির মিলিত সহায়তায় মাদক ব্যবসায়ীরা অসম্ভব ক্ষমতায় বলীয়ান। সীমান্ত ডিঙিয়ে আনা মাদকদ্রব্য নিরাপদে গুদামজাত করা হয় প্রায় প্রকাশ্যেই। তারপর সেসবের চালান পাঠানো হয় রাজধানীসহ জেলায় জেলায়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন জেলায় অপ্রতিরোধ্য রয়েছে এ মাদক সাম্রাজ্য। দেশে সবচেয়ে ক্ষমতাধর মাদক সিন্ডিকেট হচ্ছে কক্সবাজারের ইয়াবা সিন্ডিকেট। সেখানে অর্ধশতাধিক সিন্ডিকেটের আওতায় হাজার পাঁচেক মানুষ সরাসরি মাদক-বাণিজ্যে জড়িয়ে আছে। তারা মিয়ানমার সীমান্ত গলিয়ে টেকনাফ-উখিয়ায় পাচার করে আনে মরণঘাতী লাখ লাখ ইয়াবা। সিন্ডিকেটের হাত ঘুরে সেসব ইয়াবা রাজধানীসহ ১৫টি জেলায় সরাসরি সরবরাহ করা হয়। সেখানেও ইয়াবা ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক নেতা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একশ্রেণির কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে থাকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *