শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেক্ট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-১–এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তিন বছরের বেশি একই পদে থাকার সুযোগ না থাকলেও তিনি টানা আট বছর ধরে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
২০২১ সালের ৫ আগস্ট গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপনে একই পদে তিন বছরের বেশি থাকা নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলির নির্দেশ দেওয়া হলেও আশরাফুল ইসলামের ক্ষেত্রে সেই নীতিমালা কার্যকর হয়নি। ফলে নীতির প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প-সংক্রান্ত আলোচিত দুর্নীতির মামলায় তার নাম থাকায় পদোন্নতি বন্ধ থাকলেও, কীভাবে তিনি এতদিন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আছেন,তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা।
অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে দরপত্র ছাড়াই কাজ শুরু, কাজ শেষে টেন্ডার আহ্বান এবং প্রক্কলন ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়ন তার দপ্তরে নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়েছে। একাধিক ঠিকাদার ও অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা এসব অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জুনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “এই দপ্তরে দুর্নীতি ছাড়া টিকে থাকা কঠিন। আশরাফুল এসব ম্যানেজমেন্টে পারদর্শী বলেই দীর্ঘদিন ধরেই অপ্রতিরোধ্য।”
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তিনি বিশেষ সুবিধাভোগী হয়ে উঠেছেন।
সোহবানবাগ মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মে অন্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বদলি হলেও আশরাফুল অদৃশ্য কারণে বহাল থাকেন। টানা আট বছর গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকার ফলে তার মধ্যে ‘অদৃশ্য ক্ষমতা’র মনোভাব গড়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নীতিমালার বাইরে অবস্থান, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়েও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থাকা,সব মিলিয়ে বিষয়টি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও জবাবদিহির অভাবকেই স্পষ্ট করছে।
গণপূর্তে যতদিন ‘ম্যানেজমেন্ট সিন্ডিকেট’ সক্রিয় থাকবে, ততদিন ৫ আগস্টের ঘোষণাগুলো কেবল নথির পাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে,এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই অভিযোগ বিষয়ে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি বক্তব্য জানতে চাইলে আশরাফুল সাহেব বলেন, এসব অসত্য অভিযোগ আমার বিষয় সবই মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।