শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
* ১৯৭৭ সনের ২০ শে ডিসেম্বর এর ঘটনা সুত্রে পাওয়া তথ্য *
” বাংলাদেশ দখল করার আগেই ভা*র*তের ৬টি বড় শহর মাটির নিচে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে”—
এই কথাটি কোনো উগ্র বক্তব্য নয়, এটি ছিল একটি সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের আত্মসম্মান ও প্রতিরোধের দৃঢ় ঘোষণা।
১৯৭৭ সালের ২০ ডিসেম্বর।ভা*র*তের রাজধানী নতুন দিল্লিতে রাষ্ট্রীয় সফরের দ্বিতীয় দিন।
৭০ বছর বয়সী ভা*র*তের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জগজীবন রাম সৌজন্য সাক্ষাতে আসেন বাংলাদেশের মাত্র ৪১ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দেখা করতে।
আগের দিন বিমানবন্দর থেকে শুরু করে পরবর্তী দুই দিন—প্রেসিডেন্ট জিয়াকে যে উচ্চমাত্রার সম্মান ও রাষ্ট্রীয় প্রটোকল দেওয়া হচ্ছিল, তা অনেক ভা*র*তী*য় সিনিয়র নেতার জন্যই ছিল অস্বস্তিকর।
৮১ বছরের প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই,৬৬ বছরের রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডি, ৫৪ বছরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী—
সবাই বাহ্যত নীরব থাকলেও মনে মনে ক্ষুব্ধ ছিলেন এই তরুণ প্রেসিডেন্টের প্রতি দেখানো সম্মানে।এর ওপর ১৯৭৭ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ–ভা*র*ত পানিবণ্টন চুক্তি ছিল কূটনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন—যেখানে বাংলাদেশ সুস্পষ্টভাবে কৌশলগত ও কূটনৈতিক জয় লাভ করে।
এই সাফল্য অনেকের অস্বস্তিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই প্রেক্ষাপটেই সৌজন্য সাক্ষাৎকে উপেক্ষা করে সকল প্রটোকল ভেঙে জগজীবন রাম প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন—
“Did you ever compare the population and military power of Bangladesh and India?”
প্রেসিডেন্ট জিয়ার উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত ও আত্মবিশ্বাসী—
“Yes, I do.”
তাচ্ছিল্যের সুরে আবার প্রশ্ন আসে—
“Then have you calculated how much time India would need to grab your whole country?”
এইবার প্রেসিডেন্ট জিয়া সানগ্লাসের ফাঁক দিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে মাথা সোজা করে বলেন—
“But you must be careful. Before any seizure, our boys will destroy six main cities of India into ruins. And don’t forget—we defeated India in 1965.”
এই জবাবে মুহূর্তেই পরিস্থিতি বদলে যায়।
জগজীবন রাম আর কোনো কথা না বলে সোফা ছেড়ে উঠে দ্রুত বেরিয়ে যেতে থাকেন।
ঠিক তখনই আমাদের সাহসী প্রেসিডেন্ট ব্যঙ্গাত্মক হাসিতে বলে ওঠেন—
“Won’t you ask which six cities we’d destroy?”
জগজীবন রামের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভা*র*তের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব জগৎ সিং মেহতা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভা*র*তীয় হাইকমিশনার কেপিএস মেনন—দুজনই অভিজ্ঞ কূটনীতিক।
রামের আচরণে তারাও হতবিহ্বল হয়ে পড়েন এবং ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইকে অবহিত করেন।প্রেসিডেন্ট জিয়ার পাশে তখন উপস্থিত ছিলেন—
পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক শামসুল হক,
পানি বিশেষজ্ঞ ও উপদেষ্টা বি. এম. আব্বাস,
পররাষ্ট্র সচিব তবারক হোসেন,
এবং ভা*র*তে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার শামসুর রহমান খান।
তাঁরা সবাই মুহূর্তটির গুরুত্ব বুঝে স্তম্ভিত ও শঙ্কিত হয়ে পড়েন।কিন্তু রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান ছিলেন অটল ও আত্মবিশ্বাসী।তিনি ইশারায় সবাইকে বসতে বলেন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই কূটনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়।
অল্প সময়ের মধ্যে ভা*র*তে*র প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাজপেয়ী উপস্থিত হয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়ার মনোভাব জানতে চান।
জিয়াউর রহমান অত্যন্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে বলেন—
“তেমন কিছুই হয়নি। মনে হলো মিস্টার রাম আমার সঙ্গে ফান করেছেন, আমিও ফান করেই উত্তর দিয়েছি।”
এই ছিল শহীদ জিয়াউর রহমান—
যিনি একদিকে বজ্রকঠিন সাহস দেখাতে জানতেন,
অন্যদিকে কূটনৈতিক সংযম ও রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য বজায় রাখতেও পারতেন।
তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষক নন,
তিনি ছিলেন বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।
আজ তাঁর ৯০তম জন্মদিনে গর্বের সঙ্গে বলতেই হয়—
এমন নেতা নিয়ে গর্ব করতে পারে প্রতিটি বাংলাদেশি।
প্রশ্ন একটাই—
তাঁর উত্তরসূরী হিসেবে আমরা কি তাঁর ইতিহাস ও আদর্শ মনে রাখছি ?
নাকি সময়ের প্রয়োজনে শুধু নাম ব্যবহার করছি ?