দক্ষিণ অঞ্চলের খুলনা জেলা কয়রা থানার পাশ দিয়ে প্রবাহিত সুন্দরবন। সেখানে বহু প্রজাতির প্রাণীর বসবাস হরিণ-বানর-বাঘ-মাছ-কাকড়া-মধু ইত্যাদি,জীবন জীবিকার তাগিদে,জীবনের মায়া ত্যাগ করে মাছ-কাঁকড়া-মধু সংগ্রহ করতে যান জেলে,বাওয়ালীরা বহুদিন যাবত ধরে বিভিন্নভাবে সুন্দরবনে বসবাস করেন,বন্দুকসহ সন্ত্রাসী বনদস্যু বাহিনী,বনজীবীরা বনে মাছ কাঁকড়া সংগ্রহ করতে গেলে তাদের থেকে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করেন-টাকা-না-দিলে জীবন নাশকের হুমকি মারপিট করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছেন(দস্যুরা) ’সাম্প্রতিক সুন্দরবনে মাছ-কাঁকড়া আহরণ করতে যাওয়া কয়েকজন বনজীবী দের মধ্যে আ.সালাম ও আকবর আলী বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে আটক হন। শুধু আটক হয়ে শেষ হয়নি তাদের ওপর চালানো হয়েছে নির্মম নির্যাতন। তারা দুজনই চিকিৎসাধীন আছে।নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে আকবার বলেন, ‘আমি আগে থেকে তাদের (বনদস্যুদের) চাওয়া অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করে বনে গিয়েছি কিন্তু তারা আমাকে খুব মারধর করেছে। আমার মাজাসহ (কোমরে) সারা শরীরে লাঠি দিয়ে প্রচুর মেরেছে। একপর্যায়ে আমি হুঁশ (জ্ঞান) হারায়। পরে আর কিছু বলতে পারি না। পরবর্তী সময়ে আমি একদিন পরে আমার সহকর্মীরা আরও মুক্তিপণ দিয়ে আমাকে বাড়িতে নিয়ে আসে।’একই বর্ণনা ভুক্তভোগী আ.সালামের-তিনি বলেন, ‘আমাকেও তাদের নৌকায় তুলে নিয়ে প্রচুর মেরেছে। একপর্যায়ে রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে তখন রাত ১টার দিকে তাদের (বনদস্যুদের) নৌকা থেকে পালিয়ে বনের গহিনে চলে আসি। শরীরে প্রচুর ব্যথার যন্ত্রণা আর পেটে ক্ষুধা নিয়ে রাতভর হেঁটে পরের দিন সন্ধ্যার একটু আগে একটি ফরেস্ট ক্যাম্পে এসে উঠি। কিন্তু তারা বনদস্যু ভেবে আমাকে আশ্রয় দিতে চায়নি, কিন্তু যখন তাদের ফোন দিয়ে বাড়িতে কথা বলিয়ে দিয়েছি তখন তারা আমাকে আশ্রয় দেয়। পরে তাদের সহযোগিতায় আমার বাড়ির লোকজন গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো (২) ব্যক্তি বলেন, বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী,তাদের ইচ্ছামতো টাকা পরিষদ করে বনে নৌকা নিয়ে কাঁকড়া মারতে গিয়েছিলাম কিন্তু’(দস্যুরা) অস্বীকারকৃতি জানান, ভীষণ আকারে আমাদের নির্যাতন মারধর করে, টাকা পয়সা মোবাইল ফোন কাঁকড়া সহ নৌকায় যা ছিল সকল জিনিসপত্র হাতিয়ে নেন।ভুক্তভোগীরা জেলেরা জানান, বনে অনেক পৃথক পৃথক দস্যু বাহিনী রয়েছে তাদের সকলের চাঁদা দিতে দিতে সুন্দরবনে মাছ কাঁকড়া আহরণ করে স্বল্প কিছু টাকা ঘরে নিয়ে আসি আবার কোন সময়-মাছ-কাঁকড়া’ঠিক মতো সংগ্রহ,না করতে পারলে অন্যের থেকে টাকা ধার করে দস্যুদের দিতে হয়। তাদের মধ্যে বিশেষ করে । পশ্চিম সুন্দরবনে মজনু বাহিনী, শরীফ বাহিনী, দয়াল বাহিনী, রবিউল বাহিনী, দুলাভাই বাহিনী, জাহাঙ্গীর বাহিনী, আবদুল্লাহ বাহিনী, মঞ্জুর বাহিনী, মাসুম বিল্লাহ ভাগনে বাহিনীর,বেশ কয়েকজন জেলে বাওয়ালীরা জানান বনে গেলে প্রতিনিয়ত নির্যাতনে শিকার হচ্ছি। আমাদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনিক ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।