1. amarpranerbd@gmail.com : news :
  2. amarpranerbangladesh@gmail.com : PRANER BD REPORTER : PRANER BD REPORTER
  3. editor.amarpranerbd.official@gmail.com : Newsdesk :
শিরোনাম :
গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরীকে ঘিরে ৩৫ e-GP টেন্ডারে প্রশ্ন গণপূর্তে সরকারি অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ,তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাকির হোসেনকে ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন মহেশখালীতে চেকপোস্টে ৮ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারঃ আটক-২ টঙ্গীতে শান্তা জুয়েলার্সের মালিক কাস্টমারের কোটি টাকা নিয়ে উধাও ,থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় আনন্দ র‍্যালি ও সমাবেশ শ্রীপুরের মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পুরাতন খলনায়ক নতুন করে আবির্ভাব। কুড়িগ্রামে পালিত হলো বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৭,  সরফভাটা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী ও গুণীজন সংবর্ধনা কবে হবে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত আজ থেকে নিষেধাজ্ঞা শেষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনে ফিরছেন জেলে-বাওয়ালিরা

তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির জন্য আশীর্বাদ

এস এম আলম
  • Update Time : Sunday, December 28, 2025,
  • 114 Time View

তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির জন্য আশীর্বাদ

এস এম আলম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে এসেছেন। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে তারেক রহমানের নিজ দেশে ফেরাকে অনেকেই বিএনপির জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন। তারেক রহমানের এমন রাজসিক আগমনে প্রাণ ফিরে ফিরেছে দলে। সেইসঙ্গে নেতাকর্মীদের মনে আসছে ব্যাপক উৎসাহ ও প্রাণচাঞ্চল্য। বহুদিন পর তার আগমনের বিষয়টিকে ফলাও করে প্রচার করেছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নামি-দামি মিডিয়া। বিদেশি মিডিয়াগুলো আগমনের খবরটিকে আরো গুরুত্ব দিতে গিয়ে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা বলে অভিহিত করেছে। নানা নিরাপত্তা শঙ্কার মাঝেও তারেক রহমান জনসমক্ষে এসেছেন, নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। দেশে এসে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি গতকাল শুক্রবার শহীদ জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেছেন। একইদিন সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে তার পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলের সিনিয়র নেতারা।
তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সমগ্র রাজনৈতিক অঙ্গনের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র আবেগ, আশা ও প্রত্যাশার স্রোত। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর থেকেই লাখো নেতাকর্মী-সমর্থকের মাঝে সৃষ্টি হয় উচ্ছ্বাস আর আবেগঘন পরিস্থিতি। এ আবেগঘন দৃশ্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ব্যক্তিগত সংগ্রাম, যা শুধু তারেক রহমানের জীবনের গল্প নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির এক জননেতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা। রাজনৈতিক জীবনে প্রবল আলোচিত ব্যক্তিত্ব সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। ২০০৭ সালে রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পরিবারের সঙ্গে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান, যা পরে দীর্ঘ নির্বাসনে পরিণত হয়।
রাজনৈতিক দল ও সমালোচকরা বলছেন, তখনকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচারিক চাপ তাকে বিদেশে থাকতে বাধ্য করেছিল। সেই সময়ের সরকারকে কিছু মহল সামরিক-সহায়তায় পরিচালিত বলে অভিহিত করেছিল, আর বিএনপি নেতারা দাবি করেছিলেন তাকে রাজনৈতিক কারণে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। শুরুতে তিনি মাত্র কিছু মাসের জন্যই দেশ ছেড়েছিলেন। কিন্তু সেই সাময়িক প্রস্থান ধীরে ধীরে ১৭ বছরের দীর্ঘ নির্বাসনে পরিণত হয়, নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে হতে হয় লন্ডন থেকে। নির্বাসনে অবস্থানের সময়েও তারেক রহমান বিএনপির নেতৃত্বে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। বিএনপি তাকে দলের ভবিষ্যৎ নেতা ও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে দেখেছে।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা ও অভিযোগ ছিল, কিছু অভিযোগে আদালতে তার অনুপস্থিতিতে সাজা প্রদান করা হয়েছিল। তবে সেসব মামলা ও অভিযোগ বাদ পড়েছে; যার পরিপ্রেক্ষিতে আবারও প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে যেন এক বিশাল আবেগের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দেশের মাটিতে পা দেওয়ার অনেক আগেই বিমানবন্দর এলাকা ও শহরের বিভিন্ন জায়গায় লাখো নেতাকর্মী তাকে দেখতে, অভিবাদন জানাতে জড়ো হন। অনেকে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। নেতাকর্মীদের ভাষায়, আজকের দিনটি এমন আবেগে ভরা যে, মনে হয় দীর্ঘদিনের অপেক্ষা আজ পূর্ণ হলো। তাদের মতে, তার এ প্রত্যাবর্তন শুধু একটি রাজনৈতিক অভিযান নয়, বরং একটি আস্থা ও পুনর্জাগরণের প্রতীক। তার ফিরে আসা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পথকে শক্তিশালী করবে এবং আগামী ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে দলের শক্তি আরো দৃঢ় করবে।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হতে ঝিনাইদহ থেকে ৩০০ ফিটে ছুটে এসেছেন মনির হোসেন। আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আজকের দৃশ্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায়। এটি নেতার দীর্ঘ নির্বাসনের পর দেশপ্রেমে উজ্জ্বল প্রত্যাবর্তন। তিনি বলেন, আজ তিনি শুধু একটি বিমানের যাত্রী হিসেবে নন, তিনি ফিরে এসেছেন একটি নতুন প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে, নেতাকর্মীদের হৃদয়ে নতুন করে জীবন্ত হয়ে। এতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশ যেন নতুন আলোয় আলোকিত হয়েছে। সুমি আক্তার নামের আরেকজন বলেন, আমি এখানে তারেক স্যারকে স্বাগত জানাতে এসেছি। নেতার উপস্থিতি আমাদের জীবনে নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে। তার ফেরার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারছি, যে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। এ অনুভূতি প্রকাশের ভাষা আমার কাছে নেই।
খুলনা থেকে আসা জহিরুল ইসলাম বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য ইতিহাসের এক স্বর্ণালী অধ্যায়। দীর্ঘ নির্বাসনের পর নেতা যখন দেশে ফিরে আসেন, তখন সাধারণ মানুষও তা শুধু নেতার নয়, দেশের জন্যও একটি বিজয় মনে করে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন আমাদের আবার একত্রিত করেছে এবং দলকে নতুন শক্তি দিয়েছে। ঢাকার বাড্ডার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের ফিরে আসা আমাদের জন্য শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি একটি আস্থা ও পুনর্জাগরণের প্রতীক। আমরা বহু দিন ধরে এ মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলাম। আজ তিনি আমাদের সঙ্গে আছেন, তাই মনে হচ্ছে বিএনপির শক্তি আরো দৃঢ় হবে এবং দেশের গণতন্ত্রের পথ শক্তিশালী হবে।

Facebook Comments Box

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 প্রানের বাংলাদেশ