শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন
দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর রোববার আবারও শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের মঞ্চে ফিরেছে অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষার্থী। শিক্ষা বোর্ডগুলোর ব্যবস্থাপনায় দেশের ৬১১টি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে চার দিনব্যাপী এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ভেন্যু কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে মতলব পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ কেন্দ্রে মতলব দক্ষিণ উপজেলার মোট ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬৭২ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৬৩ জন।
এদের মধ্যে মতলব পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০৭ জন এবং মতলব জে.বি. সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৬৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য পৃথকভাবে আসন বিন্যাস করা হয়।
ভেন্যু কেন্দ্রের সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মতলব জে.বি. সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাবেদ হোসেন এবং সহ-সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মতলব পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মোহাম্মদ শাহ আলম।
পরীক্ষার নীতিমালা অনুযায়ী, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় মোট পাঁচটি বিষয়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিষয়গুলো হলো— বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ১০০ নম্বর করে এবং বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বর করে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে মোট ৪০০ নম্বরের ওপর এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সূচি অনুযায়ী, রোববার বাংলা (বিষয় কোড–১০১), সোমবার ইংরেজি (১০৭), মঙ্গলবার গণিত (১০৯) এবং বুধবার বিজ্ঞান (১২৭) ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (১৫০) বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে পৃথকভাবে এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট করে। ফলে ওই দিন মোট তিন ঘণ্টাব্যাপী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সব প্রশ্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের আলোকে প্রণয়ন করা হয়েছে।
এদিকে, এবছরের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীরা অনুমোদিত আটটি মডেলের নন–প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারছে। অনুমোদিত মডেলগুলো হলো— ক্যাসিও ব্র্যান্ডের Fx-82MS, Fx-100MS, Fx-570MS, Fx-991MS, Fx-991Ex, Fx-991ES, Fx-991ES Plus এবং Fx-991CW। পাশাপাশি সাধারণ (নন–সায়েন্টিফিক) ক্যালকুলেটর ব্যবহারেরও অনুমতি রয়েছে। অনুমোদিত মডেলের বাইরে কোনো প্রোগ্রামেবল বা নিষিদ্ধ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৯ সালে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা চালু করা হয়। তবে সমালোচনার মুখে ২০২৩ সালে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা বাতিল করে একই সিলেবাসে অষ্টম শ্রেণিতে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গত বছরও জেএসসি-জেডিসি ও বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছর আবারও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।