ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদী হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় গায়েবানা জানাজা, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর শহরের খুলনা রোড মোড়ে সকলের সম্মিলিত অংশ গ্রহণে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে সেখান শেষে শহর ছাত্র শিবিরের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউ মার্কেট মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ওসমান হাদী হত্যার মাধ্যমে একটি কণ্ঠকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, দেশের অভ্যন্তরে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সাতক্ষীরা শহর জামায়াত, ইসলামী ছাত্রশিবির, এনসিপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনের সাতক্ষীরার প্রধান সংগঠক ইমরান হোসেন, সাতক্ষীরা শহর জামায়াতের সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, শহর শিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান, শিবিরের সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাতক্ষীরা আহ্বায়ক আরাফাত হোসেন, সাতক্ষীরা জজ কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আরিফুল ইসলাম আলো ও নাজমুল হোসেন রনি প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনে যাঁরা অগ্রভাগে থেকে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে ওসমান হাদী ছিলেন অন্যতম। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। বক্তারা আরও বলেন, ওসমান হাদীর জনপ্রিয়তা গ্রামপর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ায় একটি পক্ষ তাঁকে মেনে নিতে পারেনি।
সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে জনগণের কাছে সরকারের দায়বদ্ধতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয় ওসমান হাদীকে। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।