শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন
উড়ালসড়কের নিচের দেয়ালজুড়ে আঁকা ছিল ইতিহাস, নান্দনিকতা আর নাগরিক চেতনার প্রতীক হিসেবে পরিচিত (জুলাই গ্রাফিতি)। বলছিলাম গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় মাওনা চৌরাস্তা চলার পথে যে কেউ থেমে তাকাত-কারণ এসব চিত্রকর্ম শুধু রঙ ও রেখার সমন্বয় নয়, বরং ছিল শহরের মানুষের অনুভূতি, সংস্কৃতি আর সৌন্দর্যচর্চার অমূল্য দলিল।
দেয়ালের প্রতিটি অংশ যেন বলত একটি গল্প স্বাধীনতা, ভাষা আন্দোলন, স্থানীয় ইতিহাস, সমাজ ও মানবিকতার বার্তা। শহরের ব্যস্ততার মধ্যেও এসব আঁকিবুকি পথচারীদের চোখে আনত স্বস্তি, আনত ভাবনার খোরাক।
কিন্তু সেই শিল্পশোভিত দেয়ালগুলো এখন ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তাদের প্রাণ। কারণ সেখানে চলছে নির্মম রাজনৈতিক দখল। গ্রাফিতির বুক চিরে এখন ঠুকে দেওয়া হচ্ছে পেরেক, তার ওপর সাঁটানো হচ্ছে একের পর এক রাজনৈতিক পোস্টার। কে কোন নেতা, কার পোস্টার বড়, কার প্রচারণা আগে এই প্রতিযোগিতার চাপে মুছে যাচ্ছে শিল্পীর শ্রম, নষ্ট হচ্ছে শহরের সৌন্দর্য।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দেয়ালটি ব্যবহার করছে দলীয় পোস্টার টাঙাতে। এতে গ্রাফিতির মূল রূপ বিকৃত হয়ে গেছে। আগে যে দেয়াল মানুষকে আকর্ষণ করতো, এখন সেই দেয়ালে ঝুলছে রঙচটা কাগজ, ছেঁড়া পোস্টার ও নানা প্রচারণামূলক ব্যানার। দৃশ্যটি চোখে লাগে, মন খারাপ করে।
এলাকা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, শিল্প মানুষের এটি জনসম্পদ। এটি রাজনৈতিক ব্যবহারের জায়গা নয়। রাজনীতি যদি মানুষের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবোধকে ধ্বংস করে, তবে সেটি কখনোই জনবান্ধব হতে পারে না। তারা দাবি করছেন, দেয়াল হোক শিল্পীর দেয়ালে নয় দলীয় প্রতিযোগিতা।
পৌর কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না—ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিল্প, বিকৃত হচ্ছে শহরের সৌন্দর্য।
আজ প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা, প্রয়োজন শিল্পকে সম্মান জানানোর উদ্যোগ। না হলে একদিন শহর হয়ে উঠবে শুধুই পোস্টারের শহর—যেখানে থাকবে না কোনো রঙ, কোনো অনুভব, কিংবা (জুলাই গ্রাফিতি-র) মতো শিল্পময় স্মৃতি।