অসুস্থ খালেদা জিয়া, দেশে ফেরা বিতর্কে তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গ ঘিরে সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলীয় সূত্র ও বিভিন্ন মহলের মন্তব্যে বিষয়টি অধিকতর গুরুত্ব পাচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার ফুসফুস, কিডনি ও নিউমোনিয়াজনিত জটিলতা সাম্প্রতিক সময়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তার শারীরিক অবস্থা অবনতির কারণে দেশজুড়ে বিএনপি ও সমর্থকরা নিয়মিত দোয়া মাহফিল করছেন। বিএনপির বহু সিনিয়র নেতা দাবি করছেন, কারাবন্দি অবস্থায় তার স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছিল— যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই সম্ভব হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে বেগম জিয়ার অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে একটি মহল রাজনীতি করার চেষ্টা করছে— এমন মন্তব্য উঠছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও বিভিন্ন নেতার বক্তব্যে। তাঁদের মতে, পরিস্থিতিকে ঘিরে তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে নানা ব্যাখ্যা–সমালোচনা ছড়ানো হচ্ছে, যা দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকে চাপে ফেলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৭–এর ১/১১ পরবর্তী সময় থেকেই দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক পরিবারের নেতৃত্ব ও প্রভাব নিয়ে নানা তত্ত্ব–বিতর্ক দেশীয় রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে রেখেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপি নেতারা বারবার অভিযোগ করেছিলেন, তাঁদের ওপর চাপ প্রয়োগ ও পরিবারকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগ সরকার তখন বরাবরের মতো অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের দাবি, জিয়া পরিবারের নেতৃত্ব টিকে থাকায় জনগণের মধ্যে গণতন্ত্রমুখী প্রত্যাশা বেড়েছে, বিশেষ করে আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থান করায় নিরাপত্তাজনিত কারণে তারেক রহমান দেশে ফিরতে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। দলীয় নেতাদের একটি অংশ বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারেকের দেশে প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্তবর্তী সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে সরকারের কোনো বাধা নেই। তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে— দেশে ফেরা কি তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে? বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন, নিরাপত্তা উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।
বিএনপির একাধিক নেতা মনে করেন, তারেক রহমান দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও দেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, “জিয়া পরিবারকে জনগণ ভালোবাসে বলে— দেশ ও জাতির স্বার্থে তারেক রহমানই পরবর্তী নেতৃত্বে বড় ভূমিকা রাখবেন”— এমন প্রত্যাশা ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে দলীয় তৃণমূলের মধ্যে।
সব মিলিয়ে, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংকট এবং তারেকের প্রত্যাবর্তন প্রশ্ন— বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা–সমালোচনা আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।