শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন
খুলনা: ক্ষমতায় না থেকেও একটি গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট বিপ্লবের পরদিন থেকেই কিছু লোক জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ হয়নি; বরং অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের ওপরও প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।” সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে খুলনার ঐতিহাসিক বাবরী চত্বরে আন্দোলনরত আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়ের জন্যই তাদের আন্দোলন চলছে। তিনি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, ন্যায়বিচার ও স্বাধীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ইসলামী দলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠেনি।
বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে না-পারা ৩৫ বছর বা তার নিচের বয়সী তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমাদের ভোটাধিকার কেউ ছিনিয়ে নিতে চাইলে তা হতে দেওয়া হবে না। তোমরা চাকরি করবে না, চাকরি দেবে—নিজেদের প্রস্তুত করো।”
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষায় সহিংসতা কম হলেও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা অরাজকতা দেখা যায়। তিনি দুর্নীতি ও সামাজিক অবক্ষয়কে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ বিভিন্ন ইসলামী দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে দুপুরে সমাবেশ শুরু হয়।
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে তাদের ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। তবে জনগণ এখন আর পোস্টার দেখে সিদ্ধান্ত নেয় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি ঘোষণা দেন, আট দলের পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ইসলামী দলগুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান ঐক্য নির্বাচন পর্যন্ত বহাল থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে আবারও ৫ আগস্টের মতো গণআন্দোলন দেখা দেবে।