শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের জনগণ পুরোনো ও ব্যর্থ রাজনৈতিক ধারা আর চায় না। তারা পরিবর্তন ও সংস্কার চায়, নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। “নতুন বাংলাদেশ পুরোনো ফর্মুলায় চলবে না”—শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর ভাষানটেকের বিআরপি মাঠে আয়োজিত ছাত্র-যুব ও নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সমাবেশটি ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াত-মনোনীত প্রার্থী এসএম খালিদুজ্জামানের পক্ষে আয়োজন করা হয়।
জামায়াত আমীর বলেন, আগামীতে জনগণ পক্ষপাতদুষ্ট সরকার দেখতে চায় না, বরং এমন সরকার চায় যারা জনগণের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখবে। তিনি বলেন, “জাতিকে বিভক্ত করে যারা রাজনীতি করে তারা জাতির দুশমন। সুশাসন ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হলে বিভাজনের রাজনীতি আর টিকবে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে তাদের প্রচার মিছিলে হামলা, গুলি ও প্রচারসামগ্রী ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি নারীদের বন্দি করার মতো ‘অপপ্রচার’ও ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব অপপ্রচারের জবাব কাজের মাধ্যমে দেওয়া হবে বলে জানান জামায়াত আমীর।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল জনগণকে দায়িত্বশীল সরকার উপহার দেওয়া হবে। দেশি-বিদেশি কোনো শক্তির চাপকে পাত্তা দেওয়া হবে না। জনগণের অধিকার তাদের ঘরে পৌঁছে দেওয়া সরকারে বাধ্যবাধকতা হবে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশের নাগরিক হিসেবে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের পূর্ণ স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জামায়াতের মনোনয়নে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান তিনি।
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পরেও দেশে ফ্যাসিবাদের ধারা রয়ে গেছে দাবি করে তিনি বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও নারীদের অসম্মান ফ্যাসিবাদেরই লক্ষণ।
আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ যাদের কর্মকাণ্ডে আস্থা রাখে তাদেরই বেছে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জামায়াত বিজয়ী হলে সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রার্থী এসএম খালিদুজ্জামান ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। নারীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা ও বড় পর্দায় বক্তব্য প্রদর্শনের আয়োজন ছিল।