মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার চীফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন রবিউল আলম রাজু বিশেষ অভিযানে সাভারে ৩ ছিনতাইকারী-ডাকাত সদস্য গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ মনোহরদীতে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা ও সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে আন্তঃধর্মীয় নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে ডুবন্ত জাহাজে মিলল যুবকের অর্ধগলিত লাশ মনোহরদীতে,জমির জবর দখলের জেরে, বোনের প্রাপ্য জমি পাওয়ার লক্ষ্যে ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নীলফামারী ডোমার বীজ আলু খামারে ২শ একর জমিতে ধৈইঞ্চা চাষ, নীলফামারী ডোমার বিএডিসিতে নতুন সম্ভাবনা ২১১ একর জমিতে আউশ ধানের চারা রোপন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা বিএনপি নিকলীতে ৫২ লিটার চোলাই মদসহ নারী গ্রেপ্তার, স্বামী-সন্তান পলাতক পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুরে জেলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অস্থির লৌহজং, দুর্ভোগে জনজীবন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উদযাপন কোয়ান্টামের আয়োজনে আট শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে সম্মাননা পুলিশের সিভিলিয়ান কর্মচারী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী বিএনপি’র পরিচয়ে বেলাল হোসেন ও হাসিনা শিরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী বোম্বাই মরিচ চাষে আগ্রহ বাড়ছে বরিশালের চাষিদের কেরানীগঞ্জে ৪ বছরের শিশুকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ধ”র্ষ”ন চেষ্টার অভিযোগে যুবক আটক। মিরপুরে সিগারেট চোরাই কারবারি কামালের পক্ষে ছাত্রদল পরিচয়ে সজীবের হুমকিতে ভুক্তভোগীর থানায় সাধারণ ডায়েরি রক্তে রাঙা সীমান্তে লাগাতার হত্যাকাণ্ড ও জোরপূর্বক ‘পুশ-ইনে নীরব বাংলাদেশ বাংলা টিভির সামাদুল হককে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ ভুয়া আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট, এনআইডি জালিয়াতি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছে বাবুল জনরায়ের জয়: ঘাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের প্রশাসনিক ক্ষমতা পুনর্বহাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান, এমপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মানবাধিকার সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর গুম ও খুনের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যবৃন্দ। গ্যাসের সংকট দ্রুত নিরসনে সরকারের নানা উদ্যোগ পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার টঙ্গীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে সেচ পাম্প স্থাপন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রমে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী শাহীন আহমদ রিজভী হোয়াইক্যংয়ের কথিত ঠিকাদার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী যুবদল নেতা ফরিদ ও মৎস্যজীবি দল নেতা আজম ইয়াবাসহ আটক খুলনায় দৌলতপুর ওজোপাডিকো মসজিদে ফজরের নামাজের সময় গুলি, আহত ১ মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা মাঠে ও অফিসে রুকুনোজ্জামান রোকন: জনসেবায় মসিক প্রশাসকের নতুন দৃষ্টান্ত ফুটবল বিশ্বকাপের জমকালো আসরত নিজের পোশাকে লাল-সবুজ পতাকা আর বাংলার বাঘ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ছবি দেখাইয়া বিশ্বদরবারো বাংলাদেশ রিপ্রেজেন্ট করলো এবং বিশ্ববাসীর নজড় কাড়লো সিলেটি ফুয়া সঞ্জয় ।
জরুরী নোটিশ :
জরুরী নোটিশ এবং সতর্কবার্তা ""গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক  মিডিয়া ভুক্ত পত্রিকা দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশে কর্তব্যরত সকল সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।  কিছু কুচুক্তি মহল বিভিন্ন গণমাধ্যমের আইডি কার্ড নকল করে বিভিন্ন প্রকার অপরাধে জড়াচ্ছে কিছুদিন পর পর পত্রিকার এসব খবরে আমরা বিভ্রান্ত। এরকম বেশ কয়েকজন অপরাধী দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার আইডি কার্ড নকল করেছে এমন প্রমাণিত হওয়াতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে  তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। এবং সংবাদ প্রকাশ করে এসব অপরাধীদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই বলে আমরা ঘোষণা দিয়েছি।  সেই সাথে আমরা আমাদের প্রদত্ত বিগত দিনের সকল আইডি কার্ড পরিবর্তন করে স্ক্যানিং কোড সিস্টেম করে নতুন আঙ্গিকে আইডি কার্ড তৈরি করেছি।  দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশে কর্তব্যরত সকল সাংবাদিকদের কে সম্মানের সাথে জানাচ্ছি আপনারা  আপনাদের পুরনো আইডি কার্ড পত্রিকা অফিসে জমা দিয়ে সেই সাথে নতুন করে ভোটার আইডি কার্ড এবং  আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদের সত্যায়িত ফটোকপি সহ জমা দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন আইডি কার্ড সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশ দেয়া গেল। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশ যারা অমান্য করবে তাদেরকে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃত বলে গণ্য করবেন। আপনাদের জ্ঞাতার্থে আরও জানাচ্ছি যে  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশক্রমে সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মান নির্ণয় সহ সাংবাদিকদের ডাটাবেজ তৈরি করছেন, মাননীয় সাবেক বিচারপতি প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ইতিমধ্যে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। পুনরায় আপনার ভোটার আইডি কার্ড এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা অভিজ্ঞতার সনদ সকল কিছু সত্যায়িত করে নতুনভাবে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার   কর্তৃপক্ষকে জমা দিয়ে পুরনো কার্ডটি ফেরত দিয়ে নতুন আইডি কার্ড নেওয়ার জন্য নির্দেশ রইল।  আদেশক্রমে --আব্দুল্লাহ আল মামুন--প্রকাশক ও সম্পাদক--দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ ।

মাদকসেবী ও কারবারিরা ভয় পাচ্ছে না প্রায় প্রকাশ্যে চলছে বেচাকেনা

শের ই গুল : / ১৮৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

(বর্তমানে দেশে দুই কোটির বেশি মাদকসেবী। যার বেশির ভাগ তরুণ-তরুণী। সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ, প্রশাসনিক দৌড়ঝাঁপ আর অসংখ্য মামলা-হয়রানির মধ্যেও দেশে জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। মাদকের কেনাবেচাও বেড়ে চলেছে পাল্লা দিয়ে। দেশের প্রতিটি সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু করে খোদ রাজধানীতেও বসছে মাদকের হাটবাজার। লুকোচুরি নয়, বরং প্রকাশ্যেই বেচাকেনা চলছে সব ধরনের মাদকদ্রব্য।)

শের ই গুল :

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর স্থবিরতায় মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে সারা দেশ। গত চার বছরে দেশে অন্তত ৪০ লাখ মাদকসেবী বেড়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা এক কোটির বেশি। এদের বেশির ভাগ তরুণ-তরুণী।

দেশের ৩০ শতাংশ যুবকের মধ্যে বেশির ভাগই মাদকে জড়িয়ে পড়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, মাদক বিশেষজ্ঞ, পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতার চিত্র পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে মায়ানমার থেকে ইয়াবা আর ভারত থেকে আসা ফেনসিডিলের বাজার বহু আগে থেকে। এর সঙ্গে নতুন নতুন মাদকও যুক্ত হচ্ছে, যা রোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশব্যাপী থানাগুলো জনতার রোষানলের শিকার হয়। এর পর থেকে বেশ কিছুদিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি মাদক কারবার অনেকটাই নির্বিঘ্ন করে এবং সারা দেশে সহজলভ্য হয় মাদক। দেশে চার-পাঁচ বছর আগেও ৫০ থেকে ৬০ লাখ মাদকসেবী ছিল।

কিন্তু কিছুদিন ধরে ব্যাপক হারে বেড়েছে এই সংখ্যা। মানসের গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে দুই কোটির বেশি মাদকসেবী। যার বেশির ভাগ তরুণ-তরুণী। গত চার বছরে বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এ জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর শিথিলতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাঁরা জানাচ্ছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নজর আগের মতো নেই। ফলে মাদকসেবী ও কারবারিরা ভয় পাচ্ছে না। প্রায় প্রকাশ্যে চলছে বেচাকেনা। ডা. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, ২০২০ সালে করোনার সময় থেকে মাদকসেবীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ওই সময় থেকে অনলাইনে এসব বিক্রি বেড়ে যায়, যা দিন দিন প্রসারিত হয়েছে। ফলে এখন বিভিন্ন উৎস থেকে মাদক সংগ্রহ করতে পারছে। ফলে বিষয়টি আতঙ্কের হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর রেললাইনের আশপাশের বস্তি ও অন্যান্য মাদক স্পটে বিশ্বস্ত সোর্স নিয়োগের মাধ্যমে সংবাদ সংগ্রহেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের ছনপাড়া এলাকায় অবৈধ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে অভিযানের নামে অহেতুক হয়রানি না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি যৌথ বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান প্রশংসিত হয়েছে।

মাদকে সয়লাব দেশ। মানুষ মাদক ব্যবসায়ী আর মাদকাসক্তদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। পুলিশও যেন অসহায়। কোথাও কোথাও মাদকের বিরুদ্ধে নাগরিক কমিটি হয়েছে। প্রশ্ন হলো কোথায় আছি আমরা? দেশে মাদক ব্যবসায়ীরা কি এতই শক্তিশালী যে তাদের কাছে আমরা হেরে যাব। সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ, প্রশাসনিক দৌড়ঝাঁপ আর অসংখ্য মামলা-হয়রানির মধ্যেও দেশে জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। মাদকের কেনাবেচাও বেড়ে চলেছে পাল্লা দিয়ে। দেশের প্রতিটি সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু করে খোদ রাজধানীতেও বসছে মাদকের হাটবাজার। লুকোচুরি নয়, বরং প্রকাশ্যেই বেচাকেনা চলছে সব ধরনের মাদকদ্রব্য। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও পুলিশের পৃথক পরিসংখ্যান সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী ১০ হাজার গডফাদারের তত্ত্বাবধানে ৪০ লাখ ৬৫ হাজার পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার সমন্বয়ে দেশব্যাপী মাদক-বাণিজ্যের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। এ চক্রের সদস্যরা ঘাটে ঘাটে টাকা বিলিয়ে সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। মাঝেমধ্যে কোথাও কোথাও প্রশাসনিক অভিযান পরিচালিত হলেও তা মাদক নেটওয়ার্কে কোনো রকম ব্যাঘাত ঘটাতে পারে না। বরং পুলিশের ৫ শতাধিক সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের সহস্রাধিক রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে উল্টো মাদক-বাণিজ্যে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন তথ্যই প্রকাশ করেছে দেশের শক্তিশালী একটি দৈনিক।

ভয়ংকর তথ্য হলো—২০৩০ সালের মধ্যে দেশে এক কোটি লোক নেশায় আসক্ত হয়ে পড়বে। এমন আশঙ্কা মাদকাসক্তি নিরাময়ের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত বিশেষজ্ঞদের। তাদেরও মতে, প্রতি বছর শুধু নেশার পেছনেই খরচ ৮০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সংশ্লিষ্টরা এই মুহূর্ত থেকেই পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। আমাদের বর্তমান সমাজ জীবনে মাদকের ব্যবহার সবাইকেই উদ্বিগ্ন করেছে। এর বিষাক্ত ছোবল অকালে কেড়ে নিচ্ছে অনেক প্রাণ। অনেক সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণী হচ্ছে বিপথগামী। এ থেকে পরিত্রাণের আশায় ১৯৯০ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (১৯৯০ সালের ২০নং আইন) প্রণীত হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকল্পে ওই আইন ১৯৯০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রণয়ন করা হয়। ওই আইনের ২(ঠ) ধারায় মাদকের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

ভারতে তৈরি ফেনসিডিল সিরাপ আমাদের দেশে মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই সিরাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আফিম থেকে উদ্ভূত কোডিন, এই কারণেই ফেনসিডিল সিরাপ সেবন করলে মাদকতা আসে। অ্যালকোহল ছাড়া অন্য কোনো মাদকদ্রব্যের চাষাবাদ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহন, পরিবহন, আমদানি-রফতানি, সরবরাহ, ক্রয়, বিক্রয়, ধারণ, সংরক্ষণ, গুদামজাতকরণ, প্রদর্শন, প্রয়োগ ও ব্যবহার ওই আইনের ৯ ধারায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর নবম দশকে (১৯৮১ থেকে ১৯৯০ সাল) বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে মাদকের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় বিদেশ থেকে আসা মাদক সম্পর্কিত অপরাধের বিচার করা হতো ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন অনুসারে। সেখানে শুধু শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাপথে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য দেশে নিয়ে আসা বা নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধেই আসামির বিচার হতো।

জনজীবনে ব্যাপক ক্ষতি সাধনকারী এই মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমনের জন্য ওই আইন পর্যাপ্ত ছিল না। তাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকল্পে ১৯৯০ সানে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন’ প্রণয়ন করা হয়। ১৩৯৬ বঙ্গাব্দের ১৯ পৌষ মোতাবেক ১৯৯০ সানের ২ জানুয়ারি থেকে এ আইন কার্যকর হয়। কিন্তু কুড়ি বছরেরও অধিককাল পথপরিক্রমায় মাদকদ্রব্য ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়নি। এর ব্যবহার এবং প্রসার বেড়েই চলেছে। অভিভাবকরা আজ চিন্তিত তাদের সন্তানদের মাদকাসক্তি নিয়ে। মাদকের হিংস্র ছোবল থেকে সারা জাতি পরিত্রাণ চায়। আইনের কার্যকর প্রয়োগ হয়নি বলেই আজ মাদক নিয়ে এত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বেড়েছে উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, রাজধানীতে ডিজে পার্টির নামে বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় মাদকের রমরমা আসর বসে। এখানে সাধারণত ধনী পরিবারের তরুণ-তরুণীদের যাতায়াত। এমনকি রাষ্ট্রের সুরক্ষিত নিরাপত্তাবলয়ে বেষ্টিত কারাগার অভ্যন্তরেও মাদকের বেচাকেনা চলে। কারাবেষ্টনীতে মাদকের নিরাপদ বিস্তারের ঘটনাকে শর্ষের মধ্যে ভূত বলেই অভিহিত করা যায়। এ কথা সত্য যে, মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন শুধু নগর-মহানগরেই সীমাবদ্ধ নেই, গ্রামবাংলা পর্যন্ত বিস্তৃত।

মাঝেমধ্যে মাদকদ্রব্য বহনের দায়ে কেউ কেউ ধরা পড়লেও মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকে। প্রশাসনের লোকজনও যে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, কারা-অভ্যন্তরে মাদকের প্রসারতাই এর প্রমাণ। দৃশ্যের আড়ালে এই অদৃশ্য মহাশক্তিধর চক্রটির জন্যই মাদকের ক্রমবিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না। সুতরাং, মাদক সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ব্যাপারেই আইন প্রয়োগে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে এবং এটাই সবার প্রত্যাশা।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *