শুক্রবার (২১ আগস্ট /২৬) খ্রী.সকালে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার মদন পুর এলাকায় বুলবুল হত্যা ঘটনায় আসামিদের শাস্তির বিরুদ্ধে মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে জনতা। আন্দোলনকারীরা মহাসড়কের উভয় পাশে ট্রায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয় এসময় মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এতে ভোগান্তি শিকার হয় হাজার হাজার যাত্রী ও পরিবহনের চালক হেল্পার সহ সাধারণ মানুষ। মদন পুরেই রয়েছে ” খ” সার্কেল পুলিশ সুপারের কার্যালয়। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ এবং জেলা পুলিশ জনতাকে মহাসড়ক থেকে সরাতে ও সামলাতে হিমসিম খেতে হয়। পুলিশ হত্যা কান্ডের সাথে জড়িতদের আইন অনুযায়ী বিচার পক্ষে সকল ধরনের সহায়তা প্রদান এবং সহযোগিতা করবে বলে জানালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানা পুলিশ কর্তৃক জাহিদ আল আমিন বুলবুল (৪০) হত্যাকাণ্ডের ৬ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত ১১ জন আসামি দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র সহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে ।
নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন জাহিদ আল আমিন বুলবুল (৪০) পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বুলবুল (৪০) গত জুলাই / আগস্ট ২০২৪ খ্রি. বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আন্দোলনরত ছাত্রদের বিভিন্ন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা খাবার সরবরাহ করে ছিলেন। আওয়ামী লীগের শেখ সিফাত সহ তার সহযোগীরা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। উক্ত ঘটনার জের ধরে ২৩/৭/২৪ খ্রি. রাত আনুমানিক ০০.৩০ ঘটিকার সময় শেখ সিফাত সহ তার সহযোগী আসামিরা বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, লোহার পাইপ, রড নিয়ে বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে বন্দর থানাধীন শাহী মসজিদ সাকিনস্থ ভিকটিমের অটো রিক্সার গ্যারেজে প্রবেশ করে। গ্যারেজ হতে অটো রিক্সা, চার্জার, ব্যাটারি সহ সর্বমোট ১৮,১৭,৪০০/- (আঠারো লক্ষ সতেরো হাজার চারশত) টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় ডিসিস্ট জাহিদ আল আমিন বুলবুল বাদী হয়ে বন্দর থানায় এফ আই আর নং- ১৪, তারিখ-২০ আগস্ট, ২০২৪, ধার্য করে। ধারা- 143/448/323/326/ 385/379/ 380/ 506 The Penal Code, 1860 দায়ের করেন। ডিসিস্ট মামলা দায়ের করার পর বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার ( ২০/০৮/২০২৬) খ্রি. রাত অনুমান ০৮.৪০ ঘটিকার সময় ডিসিস্ট জাহিদ আল আমিন কাজ শেষে বাড়িতে ফেরার পথে বন্দর থানাধীন সালেহ নগর সাকিনস্থ জনৈক তাহের আলী প্রধানের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছামাত্র শেখ শিফাতসহ অন্যান্য আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন আসামি দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার চলার পথ গতিরোধ করে। ১ নং আসামি শেখ সিফাতের প্রকাশ্যে হুকুম ও নেতৃত্বে সহযোগী আসামিরা ধারালো অস্ত্র লোহার এসএস পাইপ, রাম দা, চাপাতি, সুইচ গিয়ার, চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ডিসিস্ট এর শরীরের একাধিক স্থানে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে হত্যা করে। ঘটনার বিষয়ে ডিসিস্ট জাহিদ আল আমিন এর ভাই লোকমুখে সংবাদ পেয়ে লোকজন সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত জখমি অবস্থায় ডিসিস্ট কে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়া মৃত ঘোষণা করে। উক্ত ঘটনায় বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়।, যার মামলা নম্বর- নারায়ণগঞ্জ-এর বন্দর থানার মামলা নং-৪০, তারিখ-২১ আগস্ট, ২০২৬, ধারা- 302/34 The Penal Code, 1860।
হত্যাকান্ডের সংবাদ প্রাপ্তির পর নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী সার্বিক তত্ত্বাবধানে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) তারেক আল মেহেদী এর নেতৃত্বে পুলিশ লাইন্স থেকে অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে হত্যা কান্ডের রহস্য উদঘাটন করে। জেলা গোয়েন্দা শাখার টিম নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে। একই সাথে
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার “খ” সার্কেল দীপংকর ঘোষ এর তদারকি ও বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জামাল উদ্দিন এর নেতৃত্বে বন্দর থানার একটি চৌকস টিম শেখ সিফাতের আস্তানা পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় হানাদেয়। রাত আনুমানিক ০৩.৩০ ঘটিকায় শীর্ষ দুষ্কৃতিকারী শেখ সিফাত (৩২) ও সহযোগী আসামিদের গ্রেফতার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র-শস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের নাম ঠিকানাঃ ১। শেখ সিফাত (৩২), পিতা- শেখ শাহিন ওরফে রিং শাহিন, মাতা- ডালিয়া আক্তার, সাং- শাহী মসজিদ জুম্মন (২৯), পিতা- আলী আকবর, মাতা- জরিনা বেগম, সাং- কদম রসুল ফকিরবাড়ী; ২। জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন, পিতা- আলী আকবর, মাতা- জরিনা বেগম, সাং- কদম রসুল ফকির বাড়ি; ৩। মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), পিতা- রবিউল হোসেন, মাতা- মমি বেগম, সাং- বারপাড়া; ৪। রিয়াদ (৩৩), পিতা- সোবাহান, মাতা- নাজমা, সাং- বন্দর শাহী মসজিদ; ৫। মোঃ সিয়াম (২৫), পিতা- মোঃ সুলাইমান, মাতা- মোসাঃ শাহনাজ, সাং- কদম রসূল কলেজ মাঠ পানির ট্যাংকি; ৬। মোসাঃ মিনারা (৩৫), স্বামী- পারভেজ, পিতা- বাবু মিয়া, সাং- সালেহ নগর; ৭। নাসিমা (৩৬), স্বামী- মাসুদ মিয়া, পিতা- মুনছুর আলম, সাং- সালেহ নগর; ৮। রুমা (৩৬), স্বামী- মোঃ দেলোয়ার হোসেন , পিতা- মৃত হানিফ, মাতা- আমিনা বেগম, সাং- সালেহ নগর; ৯। ইফরান (২৯), পিতা- ইমরান আলী, মাতা- ফাতেমা বেগম, সাং- চিতাশাল, সর্ব থানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ; ১০। ইয়াসমিন (৪০), পিতা- মোঃ মিজান, মাতা- মাসুদা বেগম, স্বামী- দ্বীন ইসলাম, সাং- শাহী মসজিদ বৌ-বাজার এবং ১১। সিজান ওরফে জিসান (২৬), পিতা- সোহেল, মাতা- মোসাঃ আইরিন বেগম, সাং- চৌধুরী বাড়ী কাজীবাড়ী কলোনী, সর্ব থানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ।
উল্লেখ্য যে, ধৃত আসামি শেখ সিফাত (৩২) এর বিরুদ্ধে ১৪ টি মামলা, জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন এর বিরুদ্ধে ০৯ টি মামলা, রিয়াদ (৩৩) এর বিরুদ্ধে ০৪টি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। শেখ সিফাত এবং তার সহযোগীরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত।
উক্ত অভিযানে তাদের ব্যবহৃত আলামত- ১। ছ্যান দাঁ- ০১টি, ২। সুইচ গিয়ার চাকু- ০১ টি, ৩। স্টিলের চাঁপাতি- ০১টি, ৪। ২। স্টিলের সুইচ গিয়ার চাকু- ০১ টি, ৫। লোহার পাইপ- ০১টি, ৬। প্লাস্টিকের বাট যুক্ত স্টিলের ছুরি- ০১টি, ৭। ওয়াকিটকি- ০১টি, ০৮। এসএস এর লোহার পাইপ- ০৪টি উদ্ধার করা হয় এবং জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী নিয়মিত মামলায় অভিযুক্ত করে বন্দর থানা পুলিশ নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।