শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল এখন পর্যন্ত গুদামেই পড়ে আছে। বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে জব্দ করা এসব চাল দীর্ঘ সময় মেঝেতে পড়ে থাকায় গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে কার্ড হাতে নিয়ে চাল না পেয়ে হাজারো দুস্থ মানুষের ক্ষোভ, অন্যদিকে সরকারি সম্পদ গুদামে নষ্ট হওয়ার উপক্রম—সব মিলিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অনিয়মের জালে ‘গরিবের চাল’
সরেজমিনে জানা যায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপজেলার কারপাশা ও জারইতলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দুস্থদের সহায়তার জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু তালিকা প্রণয়ন থেকেই শুরু হয় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মহোৎসব। প্রকৃত অভাবীদের বাদ দিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের পছন্দের তালিকায় কার্ড বিতরণের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের সত্যতা মেলে গত ২৫ মার্চ। কারপাশা ইউনিয়নে চাল বিতরণে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম ধরা পড়লে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমকর্মীদের তৎপরতায় ও স্থানীয়দের বিক্ষোভে পরিস্থিতির অবনতি হলে ওইদিন দুপুরে ইউনিয়নের একাধিক কক্ষে ৭০ বস্তা চাল তালাবদ্ধ (সিলগালা) করে রাখা হয়। কিন্তু সেই ঘটনার মাস পেরিয়ে গেলেও সেই চাল বিতরণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
কার্ড আছে, চাল নেই: অসহায়দের আর্তনাদ
কারপাশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কডু মিয়ার স্ত্রী হেলেনা, জামালের স্ত্রী স্বপ্না এবং হুমায়ূন কবিরের স্ত্রী আয়েশাসহ অনেক সুবিধাভোগী জানান, তালিকায় নাম আছে, হাতে কার্ডও আছে, কিন্তু চাল পাননি তারা। চাল না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় ভেঙে পড়া এসব মানুষ গত ২৯ মার্চ এক মানববন্ধনের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শুধু চাল নয়, সৌদি সরকারের পাঠানো দুম্বার মাংস, খেজুর ও বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী থেকেও নিয়মিত বঞ্চিত হচ্ছেন এই অঞ্চলের প্রকৃত দুস্থরা। অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে।
গুদামে নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ
দীর্ঘদিন ধরে গুদামের স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে পড়ে থাকায় চালের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে পড়ে থাকলে চালগুলো খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,
“গরিবের পেটে যাওয়ার কথা ছিল এই চাল, অথচ এখন ইঁদুরে খাচ্ছে আর পচে নষ্ট হচ্ছে। কর্মকর্তাদের গাফিলতির দায় নেবে কে?”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনিয়মের অভিযোগ তদন্তাধীন থাকায় চালগুলো গুদামজাত করে রাখা হয়েছে। তবে কেন দীর্ঘ সময় পার হলেও এগুলো বিতরণের ব্যবস্থা করা হলো না, সে বিষয়ে সদুত্তর মেলেনি।
নিকলীর সাধারণ মানুষ ও বঞ্চিত দুস্থদের দাবি, অতি দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে জব্দকৃত চাল প্রকৃত কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণ করা হোক এবং সরকারি ত্রাণ আত্মসাৎ ও অনিয়মের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।