শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন
বিছানায় শুয়ে বাচ্চা পয়দা করলেই সংসার হয় না! আপনি কি মানুষ নাকি কেবল বংশবৃদ্ধির মেশিন
শের ই গুল:
[সতর্কবার্তা: দুর্বল চিত্তের এবং ভণ্ড সজ্জনদের জন্য এই লেখা নয়। সত্য হজম করার ক্ষমতা থাকলে পড়ুন, নতুবা এড়িয়ে যান।]
শুনতে খুব খারাপ লাগছে, তাই না? গায়ে জ্বালা ধরছে? ধরুক। কারণ, আপনি হয়তো সেই মানুষটা, যে নিজেকে মহান মনে করেন, কিন্তু আসলে আপনি আপনার পরিবারের জন্য একটা বোঝা ছাড়া আর কিছুই নন।
আসুন, সোজা কথায় আসি। কোনো রাখঢাক নয়, কোনো পলিটিক্যাল কারেক্টনেস নয়।
যদি আপনি একজন পুরুষ হন এবং আপনার ধমনীতে অঢেল টাকা কামানোর নেশা না থাকে, যদি আপনার সকাল-সন্ধ্যা শুধু “ডাল-ভাত” খেয়ে বেঁচে থাকার সন্তুষ্টি থাকে—তবে আপনি পুরুষ নন। আপনি স্রেফ একটা ‘কুকুর’-এর জীবন যাপন করছেন। শুনতে খুব ব্রুটাল লাগছে? বাস্তবতা এর চেয়েও ভয়ংকর। একটা রাস্তার কুকুরেরও লক্ষ্য থাকে—পেট ভরা। আপনার লক্ষ্যও যদি শুধুই পেট ভরা আর রাতে বাড়ি ফিরে কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমানো হয়, তবে ওই চতুষ্পদ প্রাণীটির সাথে আপনার পার্থক্য কোথায়?
সমাজ আপনাকে শিখিয়েছে”অল্পে তুষ্ট থাকো”, “টাকায় সুখ নেই”। নির্লজ্জ মিথ্যা কথা! এই দর্শনের দোহাই দিয়ে আপনি আপনার অযোগ্যতা আর অলসতাকে ঢেকে রেখেছেন। বাস্তবতা হলো, টাকা ছাড়া আপনি অচল। আপনার সন্তান যখন ভালো স্কুলে পড়ার সুযোগ পাবে না, আপনার বাবা-মা যখন টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরবে, আর আপনার স্ত্রী যখন অন্যের দামী শাড়ি বা গয়না দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলবে—তখন আপনার এই “অল্পে তুষ্ট” থাকার দর্শন তাদের মুখে হাসি ফোটাবে না। উল্টো, তারা মনে মনে আপনাকে অভিশাপ দেবে।
একজন পুরুষের প্রধান এবং একমাত্র ধর্ম হলো—শিকার করা। আধুনিক যুগে শিকার মানে টাকা আয় করা। যে পুরুষ শিকার করতে জানে না, যার টাকা কামানোর ক্ষুধা নেই, সে নপুংসকের সমান। সে তার পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে পারে না, সুখ দিতে পারে না। সে শুধু পারে অজুহাত দিতে আর ভাগ্যকে দোষ দিতে।
অন্যদিকে, নারীদের কথায় আসি।
যদি আপনি একজন নারী হন, আর আপনার মধ্যে সংসার আগলে রাখার মতো ধৈর্যের ছিটেফোঁটাও না থাকে, যদি গুছিয়ে সংসার করার বুদ্ধিমত্তা বা ‘ম্যানেজমেন্ট স্কিল’ আপনার না থাকে—তবে আপনিও সংসারের জন্য এক জীবন্ত অভিশাপ।
আজকালকার অনেক নারী মনে করেন, সংসার মানেই হলো স্বামীর টাকা ওড়ানো, সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যাপি কাপল ছবি পোস্ট করা আর বান্ধবীদের সাথে কিটি পার্টি করা। কিন্তু যখনই সংসারের ঝড় আসে, একটু ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়, তখনই আপনারা খেই হারিয়ে ফেলেন। সামান্য স্যাক্রিফাইস বা বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে সংসারটাকে ধরে রাখার মুরদ আপনাদের নেই। আপনাদের কাছে সংসার মানে—”আমাকে সুখে রাখা হোক, আমি রানীর মতো থাকব”। কিন্তু রানীর মতো থাকতে হলে যে রাজ্য চালানোর যোগ্যতা লাগে, সেটা আপনাদের নেই।
যে নারী তার স্বামীর কষ্টের উপার্জনকে সম্মান করতে জানে না, যে নারী ঘরটাকে প্রশান্তির জায়গা না বানিয়ে কুরুক্ষেত্র বানিয়ে রাখে—সে আসলে নারী নয়, সে একটা প্যারাসাইট বা পরজীবী।
সবচেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি তখন তৈরি হয়, যখন এই দুই ধরণের “অপদার্থ” মানুষ এক ছাদের নিচে আসে। অথবা, যখন একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী বা ধৈর্যশীল মানুষের ঘাড়ে চাপে এমন কোনো অপদার্থ সঙ্গী।
আমাদের সমাজের ঘরে ঘরে আজ এই চিত্র। হয়তো স্বামী গাধার মতো খাটছে, সংসারের শ্রী বৃদ্ধির জন্য দিনরাত এক করছে, কিন্তু তার স্ত্রী ঘরে বসে সিরিয়াল দেখছে, পরচর্চা করছে আর স্বামীর টাকা ধ্বংস করছে। তার কোনো ভিশন নেই, সংসারের উন্নতি নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। তার কাছে সংসার মানে—রাতে স্বামীর সাথে শোয়া আর বছর বছর বাচ্চা পয়দা করা। ব্যাস! এর বাইরে তার কোনো অবদান নেই।
আবার উল্টোটাও সত্য। স্ত্রী হয়তো হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে সংসার গুছিয়ে রাখতে চাইছে, ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে, কিন্তু তার স্বামী এক নিরেট গর্দভ। যার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই, যে ভাবে—”আল্লাহ যা দেয়, তাতেই হবে”। আরে ভাই, আল্লাহ তো তাকেই দেন যে চেষ্টা করে! আপনার এই অকর্মণ্যতার কারণে আপনার স্ত্রী আপনার দিকে তাকিয়ে করুণা আর ঘৃণার মিশ্রণ অনুভব করে। সে মুখে হয়তো কিছু বলে না, কিন্তু মনে মনে সে জানে—সে এক হেরে যাওয়া পুরুষের সাথে সংসার করছে।
আপনাদের অনেকের কাছে সংসারের সংজ্ঞা হলো—একসাথে থাকা, নিয়ম করে সহবাস করা আর বাচ্চা জন্ম দেওয়া। বিশ্বাস করুন, এই কাজটা রাস্তার কুকুর-বিড়ালও আপনার চেয়ে ভালো পারে। ওদেরও বাচ্চা হয়, ওরাও একসাথে থাকে। তাহলে মানুষ হিসেবে আপনার শ্রেষ্ঠত্ব কোথায়?
যাদের মধ্যে সংসারের উন্নতির কোনো জেদ নেই, যারা প্রবলেম সলভ করতে জানে না, যারা শুধু সমস্যা তৈরি করতে জানে—তারা আসলে সমাজের আবর্জনা। এরা যখন মারা যাবে, তখন তাদের পরিবার হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে। শুনতে খুব নিষ্ঠুর শোনাচ্ছে? কিন্তু এটাই সত্যি। কত পরিবারে দেখা যায়, বাবা মারা যাওয়ার পর সন্তানরা খুশি হয়, কারণ “বোঝা” নেমে গেছে। কত স্বামী মনে মনে কামনা করে, তার ঝগড়াটে ও অবিবেচক স্ত্রীর মৃত্যু হোক।
আপনার সঙ্গী কি আপনাকে নিয়ে গর্ব করে? নাকি আপনাকে সহ্য করে?
আজ রাতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করুন।
পুরুষদের জন্য প্রশ্ন:
আপনার পকেটে যদি আজ টাকা না থাকে, আপনার স্ত্রী কি আপনাকে ভালোবাসবে? দয়া করে সিনেমার ডায়লগ দেবেন না। বাস্তবতা হলো, অভাব যখন দরজা দিয়ে আসে, ভালোবাসা তখন জানালা দিয়ে পালায়। আপনার যদি তীব্র টাকা কামানোর নেশা না থাকে, তবে আপনি আপনার স্ত্রী-সন্তানকে ভবিষ্যতে এক অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দিচ্ছেন। আপনি কি প্রস্তুত সেই দিনের জন্য, যেদিন টাকার অভাবে আপনার সন্তান আপনার দিকে ঘৃণাভরা চোখে তাকাবে?
নারীদের জন্য প্রশ্ন:
আপনার রূপ-যৌবন দুদিন পর থাকবে না। তখন আপনার সংসারের পুঁজি হবে আপনার ব্যবহার, আপনার বুদ্ধিমত্তা আর আপনার সেবা। যদি আপনার মধ্যে সংসার গুছিয়ে রাখার ক্ষমতা না থাকে, তবে বৃদ্ধ বয়সে আপনি হবেন পরিবারের সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। স্বামী আপনাকে ঘরে ফিরতে ভয় পাবে, সন্তানরা আপনাকে এড়িয়ে চলবে। আপনি কি সেই একাকীত্বের জন্য প্রস্তুত?
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ আছে যারা একাই একটা সংসার টেনে নিয়ে যাচ্ছে। একজন হয়তো গাধার মতো খাটছে, আর অন্যজন রক্তচোষার মতো চুষে খাচ্ছে। যে খাটছে, সে ভাবছে—”একদিন সব ঠিক হবে”।
শুনুন, কিচ্ছু ঠিক হবে না।
যে মানুষের রক্তে উন্নতির নেশা নেই, তাকে আপনি গিলিয়ে খাওয়ালেও সে উন্নতি করবে না। যার স্বভাবে ধৈর্য নেই, তাকে আপনি পায়ে ধরলেও সে শান্ত হবে না।
এই লেখাটা পড়ার পর যদি আপনার মনে হয়—”আমি তো ঠিকই আছি, আমার সঙ্গীই খারাপ”—তবে আপনি ভুল। আগে নিজের দিকে তাকান। আপনি কি ইনপুট দিচ্ছেন?
আপনি কি সেই পুরুষ, যে বাঘের মতো ছিনিয়ে আনতে পারে সাফল্য? নাকি আপনি সেই ভেড়া, যে শুধু ঘাস খেয়ে দিন পার করে?
আপনি কি সেই নারী, যে ছাই থেকেও সোনা ফলাতে পারে? নাকি আপনি সেই নারী, যে সাজানো বাগানও শুকিয়ে ফেলে?
জীবনটা কোনো রিহার্সাল নয়। আপনি একবারই পৃথিবীতে এসেছেন। যদি এই জীবনে নিজের ও পরিবারের জন্য একটা সচ্ছল, নিরাপদ ও সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে না পারেন, তবে আপনার জন্মই বৃথা।
আর যদি ভাবেন, “এত কিছু ভেবে কী হবে? মরেই তো যাব একদিন”—তবে এখনই মরে যান। কারণ জীবিত অবস্থায় আপনি কেবল পৃথিবীর অক্সিজেন নষ্ট করছেন আর আপনার পরিবারের ঘাড়ে বোঝা হয়ে আছেন।
আপনার যদি গায়ে লাগে, তবে বুঝবেন সত্যটা আপনার চামড়া ভেদ করে কলিজায় লেগেছে। আর যদি গায়ে না লাগে, তবে বুঝবেন আপনার মেরুদণ্ড অনেক আগেই পচে গেছে।
সিদ্ধান্ত আপনার। আপনি কি রাজা/রানীর মতো বাঁচবেন এবং পরিবারকে বাঁচাবেন? নাকি আবর্জনার মতো পচে গলে হারিয়ে যাবেন?
সময় কিন্তু চলে যাচ্ছে। টিক-টক… টিক-টক…
জাহান্নাম অন্য কোথাও নয়, অযোগ্য মানুষের সংসারটাই হলো আসল জাহান্নাম। আপনি কি সেই জাহান্নামের বাসিন্দা?