ঢাকার আশুলিয়ায় চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মো. বেলাল মিয়া (২০)কে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাবের যৌথ অভিযানিক দল। নিহত রোমানা আক্তার রুমি (১৯) একটি চুল ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-৪, সিপিসি-২, নবীনগর ক্যাম্প, সাভার এবং র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার একটি যৌথ দল কুমিল্লার বুড়িচং থানাধীন গোল্ডেন টাওয়ারের সামনে অভিযান চালিয়ে বেলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার বেলাল মিয়া রংপুর জেলার পীরগাছা থানার দুধিয়াবাড়ী তালুক এলাকার মো. সালদার আলীর ছেলে।
ঘুমন্ত অবস্থায় চুরি, পরে কক্ষে মিলল মরদেহ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে আশুলিয়ার পবনতেক এলাকার একটি চুল ফ্যাক্টরির পেছনে হেলাল মাস্টারের বাড়ির ভাড়া বাসায় নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত রোমানা তার স্বামীর সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন।
এজাহারে বলা হয়, সকাল ৮টার দিকে বেলাল চুপিসারে ঘরে প্রবেশ করে নিহতের ভাইয়ের ব্যবহৃত একটি ভিভো স্মার্টফোন, তার মায়ের একটি বাটন ফোন এবং নগদ ৫০০ টাকা নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দরজা বন্ধ করার শব্দে নিহতের ভাইয়ের ঘুম ভেঙে গেলে তিনি বাইরে থেকে দরজা আটকে বেলালকে ডাকাডাকি করেন। তবে কোনো সাড়া না দিয়ে বেলাল পালিয়ে যান।
পরে ঘরের তালা খুলে পরিবারের সদস্যরা বেলালকে আশপাশে খুঁজে না পেয়ে রোমানার কক্ষের সামনে যান। দরজা বাইরে থেকে ছিটকানি দেওয়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে তা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। এ সময় মেঝেতে রোমানার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, রোমানার গলায় আঘাতের চিহ্ন এবং দুই হাতের কব্জির রগ কাটা ছিল। পরিবারের অভিযোগ, সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে কোনো এক সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল/সংশ্লিষ্ট মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত
র্যাব জানায়, মামলাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় ছায়াতদন্ত শুরু করে র্যাবের গোয়েন্দা দল। এজাহারনামীয় প্রধান আসামি বেলালকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়।
এর ধারাবাহিকতায় কুমিল্লার বুড়িচং থানাধীন গোল্ডেন টাওয়ারের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল মিয়া হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।