ওষুধের দোকানে ট্যাপেন্টাডলের রমরমা বাণিজ্য; আতঙ্কে খিদিরখালপাড়ের বাসিন্দারা
স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর উত্তরার খিদিরখালপাড় এলাকায় ওষুধের দোকানের আড়ালে ট্যাপেন্টাডল নামের প্রেসক্রিপশন ব্যথানাশক ওষুধ নেশার উদ্দেশ্যে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, উত্তরা সেক্টর-১২-এর ১ নম্বর রোডের মাথায় খিদিরখালপাড় এলাকায় কয়েকটি ওষুধের দোকানে দীর্ঘদিন ধরে এসব ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত বেচাকেনা চলছে।
ট্যাপেন্টাডল একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কিংবা নেশার উদ্দেশ্যে এর অপব্যবহার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকাসক্তদের একটি অংশ ইয়াবার পরিবর্তে এসব ওষুধের দিকে ঝুঁকছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ওষুধের দোকানকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলেছেন নেশাজাতীয় ওষুধের বাণিজ্য।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনের বিভিন্ন সময়ে রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে কিশোর-তরুণদের আনাগোনা রয়েছে এসব দোকানে। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি নেশার উদ্দেশ্যে ওষুধ কিনতে আসা ব্যক্তিদেরও এসব দোকান থেকে ট্যাপেন্টাডল সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু একটি দোকান নয়—খিদিরখালপাড়ের আশপাশের আরও কয়েকটি ওষুধের দোকানেও একই ধরনের বেচাকেনা চলছে। তাদের দাবি, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে অনেকেরই জানা থাকলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ার কারণে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ওষুধের দোকানের আড়ালে কী বিক্রি হচ্ছে, তা নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি। বিশেষ করে তরুণদের নেশার দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত এসব দোকান তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
আরেক বাসিন্দার অভিযোগ, খিদিরখালপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম চলছে। ওষুধের দোকানগুলোতে কী ধরনের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর বৈধতা এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানগুলোতে অভিযান চালানো এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি খিদিরখালপাড়ের অবৈধ দখল ও অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধেও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দোকানের কয়েকজন ব্যক্তি ক্যামেরার সামনে থেকে সরে যান, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আরও সন্দেহ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ওষুধের দোকান যদি সত্যিই নেশার আখড়ায় পরিণত হয়ে থাকে, তাহলে এটি শুধু একটি দোকানের সমস্যা নয়—এটি পুরো এলাকার জননিরাপত্তা ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের হুমকি। তাই সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত অভিযান এবং ট্যাপেন্টাডলসহ প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধের বিক্রি কঠোরভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।