দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ জাতীয় সংসদে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমেদের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে কে আসছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর। তাঁর পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদ সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
আজকের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে বাড়তি নজরদারি। ভোটের ফল প্রকাশের পর নতুন রাষ্ট্রপতির পরিচয় নিশ্চিত হবে এবং এরপর বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে শুরু হবে তাঁর দায়িত্বকাল।
সব মিলিয়ে, ২০ আগস্টের এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়—বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত ঘটনা হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে।