
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় প্রেম করে বিয়ে করেছেন রিমা আক্তার নামের এক তরুণী। বিয়ের পর তার বাবা সেলিম মিয়া বাদী হয়ে মেয়ের স্বামী জীবনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মনোহরদী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। তবে ওই মামলা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন রিমা আক্তার।
মঙ্গলবার রাতে উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ডোমনমারা গ্রামে গিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গোলাপ মিয়ার ছেলে জীবনের সঙ্গে সেলিম মিয়ার মেয়ে রিমা আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২৯ মার্চ রিমা স্বজ্ঞানে ও স্ব-ইচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে জীবনকে বিয়ে করেন। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়রা জানান,জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী রিমার বয়স ১৯ বছর হওয়ায় আইনগত কোনো জটিলতা ছাড়াই শরীয়াহ মোতাবেক কাবিনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।
এদিকে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তার বাবা সেলিম মিয়া জীবনের পাশাপাশি প্রতিবেশী আরও চারজনকে আসামি করে মনোহরদী থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে রিমা আক্তার বলেন, “আমি স্বজ্ঞানে ও সুস্থ মস্তিষ্কে জীবনকে ভালোবেসে বাড়ি থেকে চলে এসেছি। আমি প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছি। আমার বাবা-মা আমার মতামত উপেক্ষা করে অন্যত্র বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আমি স্ব-ইচ্ছায় জীবনকে বিয়ে করি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বর্তমানে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছি। কিন্তু আমার বাবা-মা আমাকে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে মিথ্যা অপহরণ মামলা করে আমার স্বামী ও নিরীহ প্রতিবেশীদের হয়রানি করছেন।”
এ অবস্থায় স্বামীসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে পরিবার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের সুযোগ দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রিমা আক্তার।