হবিগঞ্জ বাস মালিক গ্রুপের অধিকাংশ বাসের বৈধ রুট পারমিট ও ফিটনেস না থাকার অভিযোগ তুলেছে মৌলভীবাজার ও সিলেট বাস মালিক সমিতি। বিআরটিএ (BRTA) পরীক্ষার তথ্যের বরাত দিয়ে তারা দাবি করেছে, হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে চলাচলকারী ১২৩টি বাসের মধ্যে মাত্র ৮টি বাসের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, বাকি সব বাস অবৈধভাবে সড়কে চলাচল করছে।
সোমবার মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ে প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ মালিক-শ্রমিক সমাবেশে পরিবহন নেতৃবৃন্দ এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। একইসঙ্গে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আজ থেকেই সিলেট-মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সমাবেশে মৌলভীবাজার বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রব মিয়া বলেন, জেলা প্রশাসক এবং মৌলভীবাজারের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান পরিবহন মালিকদের কাগজপত্র যাচাই করেছেন। এসময় সংসদ সদস্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “যাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে শুধুমাত্র তাদের গাড়িই চলবে। কোনো অবৈধ গাড়িকে রাস্তায় চলতে দেওয়া হবে না।”
পরিবহন নেতারা অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ মালিক গ্রুপের ১২৩টি বাসের মধ্যে ৯০টিরও বেশি বাসের কোনো বৈধ পারমিট নেই। বিআরটিএ’র রেকর্ড অনুযায়ী মাত্র ৮টি বাসের বৈধতা পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ফিটনেসবিহীন ও পারমিট ছাড়া এসব বাস গায়ের জোরে চলাচল করছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলেও দাবি করেন তারা।
বৈঠক শেষে যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সড়কে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নেয় মালিক সমিতি। নেতৃবৃন্দ জানান, ইতোমধ্যে সিলেট ও মৌলভীবাজার থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ মে) থেকে মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও সিলেটের ‘এসএমএস (SMS) পরিবহন’সহ স্থানীয় সকল লোকাল বাস পূর্ণোদ্যমে চলাচল করবে।
হবিগঞ্জের বাস চলাচল নিয়ে স্থায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য শিগগিরই সিলেট বিভাগের তিন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, “হবিগঞ্জের সাধারণ মানুষ আমাদের প্রতিপক্ষ নন। আমাদের আন্দোলন ও আপত্তি শুধুমাত্র হবিগঞ্জ বাস মালিক গ্রুপের অনৈতিক আচরণ এবং অবৈধ কাগজপত্রের গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে।”
অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন বাস সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে আগামীকাল থেকে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে লাইসেন্স ও পারমিটবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ বাসে যাতায়াত না করার জন্য যাত্রীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আন্দোলন সফল করায় সিলেট ও মৌলভীবাজারের শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে পরিবহন নেতারা শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি নির্দেশনাও দেন। এর মধ্যে রয়েছে— যাত্রীদের সঙ্গে ভদ্র আচরণ করা, আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়া এবং প্রয়োজনে বাসে খাবার পানির ব্যবস্থা রাখা, যার ব্যয় মালিক পক্ষ বহন করবে।
সভায় মৌলভীবাজার বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি এমতাদুল হক এহমাদ, আব্দুর রহিম লিটন, ফজল করিম ময়ূন, সাবেক শ্রমিক নেতা আনোয়ার হোসেন, রোড কমিটির সভাপতি কুতুব মিয়া এবং সিলেটের পরিবহন নেতা শাহাব উদ্দিনসহ দুই জেলার শীর্ষস্থানীয় মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশটি “মালিক-শ্রমিক ভাই ভাই, একসাথে এগিয়ে যাই” স্লোগানের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।