শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ডহুরি-বাঁলিগাও-তালতলা খালের ভাঙন রোধ, স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং চাঁদাবাজি বন্ধে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতুর সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় বক্তারা জানান, প্রশাসনের পূর্ব নির্দেশনায় দীর্ঘদিন ধরে খালটিতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে পুনরায় বাল্কহেড চলাচল শুরু হয়েছে। এতে খালের দুই পাড়ের বসতবাড়ি ও স্থাপনা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বাল্কহেড চলাচলের সুযোগ করে দিতে একটি চক্র চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খাল রক্ষা, ভাঙন প্রতিরোধ এবং চাঁদাবাজি বন্ধে করণীয় নির্ধারণে উপজেলা প্রশাসন এ জরুরি সভার আয়োজন করে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান, বিক্রমপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মাসুদ খান, লৌহজং উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু নাছের লিমন, সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম রাকিব, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোঃ লিখন, দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক মোঃ জাহিদ হাসান, নৌ-পুলিশের মাওয়া ফাঁড়ির এসআই জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, বাল্কহেড মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA)-এর টোলঘর চালু থাকলে বাল্কহেডগুলো টোল পরিশোধ করে পুনরায় খালে চলাচলের চেষ্টা করতে পারে। এজন্য দ্রুত টোলঘর বন্ধের দাবিও জানানো হয়।
সকল পক্ষের বক্তব্য ও স্থানীয়দের উদ্বেগ বিবেচনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা দেন, সোমবার থেকেই ডহুরি-বাঁলিগাও-তালতলা খালে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।