শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের পানিহাতা গ্রামের বৃদ্ধ চাঁন মিয়া পাগলার টয়লেট থেকে নিখোঁজ ১১ বছর বয়সী কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত যুবকের মোবাইলে স্বীকারুক্তির পর শুক্রবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে থানা পুলিশ ওই মরদেহ উদ্ধার করে। একইসাথে এলাকাবাসীর হাতে আটক অভিযুক্ত যুবক বিল্লাল হোসেন এর বাবা চাঁন মিয়া, মা তহুরন নেছা ও বোন রাবিয়াকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, সানজিদা আক্তার নামে ওই কন্যাশিশুকে ধর্ষনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নিজেদের টয়লেটে লুকিয়ে রেখেছিল বিল্লাল হোসেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বাবা-মা হারা কন্যাশিশু সানজিদা তার নানী চাঁন ভানুর কাছে ছোটবেলা থেকে লালন-পালন হয়ে আসছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সানজিদা প্রতিবেশী চাঁন মিয়া পাগলার বাড়িতে খেলতে যায়। সন্ধ্যার পর বাড়ি না ফিরলে স্বজনেরা তাকে রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করেন।
আজ শুক্রবার সকালে চানু মিয়ার বাড়িতে সানজিদার সজনেরা খুজতে গেলে চানু মিয়ার স্ত্রী জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার সাথে বৈশাখী বাজারে আসে। পরে রাত দেখে বাড়িতে পাঠিয়ে দেই।
একপর্যায়ে সানজিদার স্বজনেরা বিল্লালের মা তহুরন নেছাকে চাপ সৃষ্টি করলে বিকেলে পলাতক ছেলে বিল্লালের মোবাইল নম্বর দেন। পরে ওই নাম্বারে ফোন করে সানজিদার কথা জানতে চাইলে সে সানজিদাকে হত্যা করে নিজেদের টয়লেটে লুকিয়ে রেখেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। পরে টয়লেটে গেলে সানজিদার মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। এসময় এলাকাবাসী বিল্লালের বাবা-মা-বোনকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন।
পানিহাতা গ্রামের সাবেক মেম্বার জব্বার আলির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,সানজিদা হত্যার বিচার যেন খুব দ্রুত এবং সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যু দন্ড দেওয়া হয়।সেই সাথে উপস্থিত এলাকাবাসীও অভিযোক্ত বিল্লালের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি করেছেন।
ঘটনা স্থলে পুলিশ এসে আটককৃতদের উদ্ধার করেন।শিশুকন্যা সানজিদার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,অভিযোক্তের বাবা, মা ও বোন কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।