
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় এবারের আলুর মৌসুম কৃষকদের জন্য লোকসানের বছরে পরিণত হয়েছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে দাম কম থাকায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আলু পুকুরের ধারে ফেলে দিচ্ছেন।
সোমবার (৪ মে) উপজেলার গজঘন্টা ইউনিয়নের ছালাপাক এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, শত শত বস্তাভর্তি পচা আলু পুকুরের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও স্তূপ করা আলু থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা স্থানীয়দের জন্যও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে আলুর দাম হঠাৎ করে পড়ে যাওয়ায় উৎপাদিত আলু বিক্রি করা যাচ্ছে না। সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এসব আলু পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই তা ফেলে দিতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে গঙ্গাচড়ায় ৫ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ২০৭ টন। স্থানীয় চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়ে দাম কমে গেছে।
বর্তমানে পাইকারি বাজারে আলুর দর কেজিপ্রতি ৬ থেকে ৭ টাকা, আর মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে ৪ থেকে ৫ টাকায়। অথচ উৎপাদন খরচ পড়েছে কেজিপ্রতি ১৮ থেকে ১৯ টাকা। ফলে প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
ছালাপাক গ্রামের কৃষক তহিদার রহমান জানান, তিনি এ বছর আলু চাষ করে শুরুতে কম দামে বিক্রি না করে ঘরে সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে প্রায় ২০০ বস্তা আলু পচে গেছে। তিনি ক্ষতির প্রণোদনা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
একই গ্রামের কৃষক শেফালী বেগম বলেন, বর্গা ও লিজ নিয়ে চাষ করায় খরচ বেশি হয়েছে। এখন ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। বাড়িতে সংরক্ষিত আলুও বৃষ্টি ও আর্দ্রতার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পরিবহন ও সংরক্ষণসহ সব খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ টাকা ব্যয় হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭ থেকে ৮ টাকায়। এতে তারাও লোকসানের মুখে পড়েছেন।
উপজেলার একমাত্র হিমাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বস্তা, যা ইতোমধ্যে প্রায় পূর্ণ। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বাড়িতেই আলু সংরক্ষণ করছেন, যা টানা বৃষ্টি ও আর্দ্রতার কারণে দ্রুত পচে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, অতিরিক্ত উৎপাদন, সংরক্ষণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং অস্থির আবহাওয়ার কারণেই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রণোদনা না দিলে ভবিষ্যতে আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন তারা।