
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে চরম ভোগান্তির মধ্যেই এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ১২টা থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় রবিবারের পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দেয় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।
জানা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক পরীক্ষার্থী রাতভর পড়াশোনা করতে পারেনি। ফলে প্রস্তুতিতে ঘাটতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হয় তারা। সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়েও স্বস্তি মেলেনি। কিছু কিছু কক্ষে পর্যাপ্ত আলোর অভাব থাকায় শিক্ষার্থীদের অস্বস্তিকর পরিবেশে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এর মধ্যে আকাশে মেঘলা আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে অন্ধকার পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে জানা গেছে, বিদ্যুৎ সংকট সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা শুরু হয়। তবে প্রতিকূল পরিবেশে পরীক্ষা দিতে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপ ও দুশ্চিন্তা ছিল স্পষ্ট। একই সঙ্গে অভিভাবকদের মধ্যেও বিরাজ করে উৎকণ্ঠা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, হাজি দেলওয়ার হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ধনতোলা আর ইউ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ঠাকুরাদহ স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ স্বাভাবিক থাকলেও কিছু সংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।
পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, হঠাৎ করে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে এবং অনেকেই যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারেনি। এতে তাদের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, “শনিবার রাতে আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টিতে বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমাদের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। দ্রুত মেরামত, পোল পরিবর্তন, তার সংযোগ, ক্রস আর্ম ও ইনসুলেটর পরিবর্তনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।”
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা হবে।