শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন
দেবিদ্বারে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে জহিরুল ইসলাম সরকার (৫০) নামে এক জমি ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার রাতে দেবিদ্বার পৌর এলাকার বালিবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জহিরুল ইসলাম মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেবিদ্বার পৌর এলাকার মোহনা আবাসিক এলাকায় বসবাস করে জমি কেনাবেচার ব্যবসা করতেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি কেনাবেচার পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার বিকেলে বালিবাড়ী গ্রামের মোবারক ও শাহীনসহ কয়েকজন যুবক জহিরুল ইসলামকে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। প্রথমে তাকে ভিরাল্লা বাস স্টেশন এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে বিষয়টি মীমাংসা না হওয়ায় সন্ধ্যার দিকে তাকে মোবারকের বালিবাড়ী গ্রামের বাড়িতে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় মরদেহ নিয়ে আসা তিন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
নিহতের স্ত্রী মাহফুজা আক্তার জানান, বিকেলে একটি ফোন কল পেয়ে তার স্বামী বাসা থেকে বের হন। রাতে হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি স্বামীর মরদেহ দেখতে পান। পাওনা টাকার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, নিহত জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকায় জাল দলিল ও জমি কেনাবেচায় প্রতারণার একাধিক অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্যের আয়োজিত একটি নাগরিক সমাবেশেও তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছিলেন। সে সময় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।