শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন
খুলনার কয়রায় উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন পেশার মানুষের বসবাস। বিশেষ করে সুন্দরবনের উপর বেশিরভাগ মানুষ নির্ভরশীল। মধু, মাছ, কাঁকড়া ও গোলপাতা আহরণ করে তাদের জীবন জীবিকা চালিয়ে আসছে বহুদিন যাবত। বনে রয়েছে বাঘ হরিণ বানর কুমিরসহ হরেক রকমের প্রাণী। জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা ভয়ংকর বাঘের ভয় না করে জীবন জীবিকার তাগিদে স্ত্রী সন্তানদের দুই বেলা দুই মুঠো খাওয়ানোর জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে বন জীবীরা।
ভয়ঙ্কর সাপ কুমির বাঘের মুখে মৃত্যু হতে পারে জেনেও নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন রাত এক করে গহীন জঙ্গলে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের জীবন যুদ্ধ।
বহুদিন যাবত সুন্দরবনে বনদস্যু বাহিনী নীরবে বনজীবীদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। গরিব অসহায় বনজীবী তাদেরকে টাকা না দিলে নির্মম অত্যাচার নির্যাতন গুলি করে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। দিনের পর দিন বহু নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বহু বনজীবী।
বন রক্ষার জন্য রয়েছে বিভিন্ন বাহিনী। ফরেস্ট ক্যাম্প, নৌবাহিনী টহলসহ প্রশাসনের তৎপরতাও রয়েছে। তারপরও দস্যুরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন জেলে বাওয়ালিরা।
বনজীবী মোঃ শহীদ (গাজী) জানান আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলে তেমন কোন কাজ না থাকায় বেশিরভাগ মানুষ আমরা সুন্দরবনের বাঘ কুমির সাপের ভয় না করে বনে যাই। মা বাবা স্ত্রীর সন্তানের মুখে খাবার দেওয়ার জন্য বনে গেলে মৃত্যু হতে পারে জেনেও মাছ কাঁকড়া মধু সংগ্রহ করতে যাই।
আমরা গরীব অসহায় কোন রকম করে সংসার চালিয়ে যাই। আগে সুন্দরবনে ডাকাতবাহিনীর সাথে দেখা হলে টাকা নিয়ে ছেড়ে দিত। এখন বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বনে রয়েছে। দুলাভাই বাহিনী জাহাঙ্গীর বাহিনী এরকম বহু বাহিনীকে টাকা দিতে হয়। দেখা গেল সকলের টাকা দিতে দিতে আমাদের আর তেমন কিছু থাকে না। কোনরকম সংসারটি টেনে টুনে চলে। তারপরও তাদের নির্মম অত্যাচার নির্যাতন গুলি বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে মোবাইল ফোন নৌকা জিনিসপত্র সকল কিছু নিয়ে নেন। এখন তারা নিয়ম করেছে তাদের সাথে চুক্তি ছাড়া বনে প্রবেশ করলে হয়তো কারো জীবন দিতে হবে না হয় হাত-পা ভেঙ্গে ঝুলিয়ে বেঁধে রাখবে।
আলমগীর (হোসেন) বলেন আমরা গরিব মানুষ লেখাপড়া জানিনা মূর্খ মানুষ জীবনের তাগিদে বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে বনে মাছ কাঁকড়া মধু সংগ্রহ করতে যাই। সব সময় ভয়ে থাকি কখন জানি বাঘ চলে না আসে। আসলে তো বিপদ হয়তো মৃত্যু না হয় বেঁচে যাব যদি হায়াত থাকে। আগে বনদস্যু ছিল তারা এরকম নির্যাতন করতো কম কিন্তু এখন তাদের নির্যাতন অত্যাচারের তাৎপরতা বেড়ে গেছে টাকা না দিলে গাছের সাথে ঝুলিয়ে নির্মম অত্যাচার মারপিট নির্যাতন করে। আবার কাউকে জিম্মি করে বহু টাকা চাঁদা দাবি করে যদি তাদের চাহিদা মত টাকা না দেয়া হয় তখন মৃত্যুর হুমকিও থাকে। তারপরও কি করব ধার দেনা করে তাদের মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করতে হয়। এখন এমন ভাবে তারা অত্যাচার শুরু করেছে বনে যাওয়ার আগে তাদের থেকে আগে চুক্তি করে যেতে হবে না হলে হয়তো মৃত্যু না হয় হাত-পা ভেঙে বনে ফেলে রেখে চলে যাবে সবকিছু নিয়ে। এই নির্মম অত্যাচার আমরা আর কতদিন সহ্য করব! আমরা সরকার প্রশাসনের কাছে অনতি বিলম্বে বন থেকে বনদস্যু নির্মূল করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা যেন স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে কোনরকম খেটে খেয়ে বেঁচে থাকতে পারি। দস্যুদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ।