শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন
মালয়েশিয়ায় ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে নজরুল ইসলাম (৩২) নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। একই ঘটনায় কোহিনুর বেগম নামে তার এক বাংলাদেশি সঙ্গীকেও হত্যা করা হয়েছে। নিহত নজরুলের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ায় এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত নজরুল ইসলাম ওই গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে। ২০১৮ সালে উন্নত জীবনের আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। তার এই অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় গিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি সমন্বিত খামার গড়ে তুলেছিলেন নজরুল। সেখানে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির পাশাপাশি বিভিন্ন পোষা প্রাণী লালন-পালন করতেন তিনি। তার এই ব্যবসায়িক সাফল্য স্থানীয় কিছু অংশীদারের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নজরুলের ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে নজরুলের বিরোধ চলছিল এবং তাকে এর আগেও কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।সবকিছু গুছিয়ে খুব শিগগিরই স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার কথা ছিল নজরুলের। খামারের গবাদিপশু বিক্রি করে দিয়ে তিনি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নিহতের ভাগনি সাদিয়া ইসলাম মীম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘মামা বলেছিলেন সব বিক্রি করে দ্রুতই দেশে ফিরবেন এবং সবার জন্য উপহার নিয়ে আসবেন। কিন্তু সেই মামা এখন লাশ হয়ে ফিরছেন।’সরেজমিনে নজরুলের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ছেলের শোকে মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে বসে আছেন। নজরুলের বোন শাপলা খাতুন বলেন, ‘ভাই আমার পরিবারের হাল ধরেছিল। আমাদের সুখের দিন দেখানোর কথা দিয়ে সে পরপারে চলে গেল।’এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, ঘটনাটি বিদেশে হওয়ায় সরাসরি কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে তিনি মনে করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দূতাবাস ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন।নিহত নজরুলের বাবা মোতালেব হোসেন ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।