হবিগঞ্জ বছরের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে ফসল ও বসতঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাখনা ধান নষ্ট করেছে এমন দুর্যোগে মাথায় হাত পড়েছে চাষি ও অসহায় মানুষের । জমির ধান কাটার ঠিক আগমুহূর্তে শিলাবৃষ্টিতে জমির পাকা ও আধাপাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। কোথাও শিলার আঘাতে ধানের শীষ ভেঙে জমিতে শুয়ে গেছে। শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির পরিবার গুলি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়ে ভাঙ্গা ঘরে বসবাস করছেন কেউ কেউ অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১-৩০ টা মিনিটের দিকে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট -শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কিছু অংশে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে চুনারুঘাট উপজেলার ৫ নং শানখলা ইউনিয়নের গোড়ামী,মির্জাপুর, সাদেকপুর, ডেউয়াতুলি, কালিনগর গ্রাম সহ শিলা বৃষ্টিতে বসত ঘরের ব্যাপক কয়ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে রাত ১০ টার দিকে হঠাৎ করেই আকাশ কালো হয়ে আসে। দমকা হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় কিছুক্ষণের মধ্যেই নামে বৃষ্টি বাতাস তীব্র শিলাবৃষ্টি প্রায় ১০ মিনিটের এই প্রাকৃতিক তাণ্ডবে জেলায় ফল ও ফসলের বসত ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষকের জমিতে ধান মাটিতে নুয়ে গেছে। বিশেষ করে যেসব ধান প্রায় পেকে গিয়েছিল, সেগুলোর ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। শিলার আঘাতে ধানী শীষ ঝরে পড়েছে, পাশাপাশি মরিচ, জিঙ্গা চিচিঙ্গা ডাটা সহ সবজি ক্ষেত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মৌসুমের শুরুতেই কালবৈশাখীর এরকম থাবায় আতঙ্কে আছেন কৃষক কিষানিরা সহ শিলা বৃষ্টিতে টিনের চাল নষ্ট হওয়া পরিবার গুলি আরো বড় আতঙ্কে আছেন কখন কি হয় তাদের একেকটা দিন যেন এক একটা বছর যাচ্ছে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন
গোড়ামীর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বসত ঘরের মো আরজু মিয়া জানান শিলা বৃষ্টিতে আমার ঘর বিদ্রো হয়ে গেছে পুড়ো ঘরে পানি পড়ে আমি বড় কষ্টে আছি কোথায় যাই কি করি পাঁচজনের পরিবার আমি কোন দিশা না পেয়ে সকালে ঘুম থেকে উঠেই হ্যাংরাজ ভাইয়ের কাছে যাই গিয়া আমার অবস্থা বলি ভাই এসে আমার ঘর দেখে গেছেন।
সুরাবই গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার জানান তিনি ১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। ১৮ কাঠা জমির ধান কাটতে পারবেনা কালবৈশাখী ঝরে মাটিতে শুয়ে পরছে বাকি জমিনের ৫০% নষ্ট করেছে শিলায়
এ বিষয়ে চুনারুঘাট -শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, শিলাবৃষ্টি হয়েছে। আমাদের এসব মাঠে ধানের কিছু কিছু জমি ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে।