শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
গাজীপুরের গাছা এলাকায় মাদকের কেন্দ্র করে ভয়াবহ সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। ‘মাদক ব্যাবসায়ী হিসেবে পরিচিত ওয়াসিম ওরফে কাইল্লা ওয়াসিমের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যাবসায় বাধা দেওয়া ও পুলিশের সোর্স এর সহযোগিতা নেওয়ায় আলমগীর হোসেন নামের এক গ্রিল ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে পঙ্গু করে দেওয়ার অভিযোগ ১৩ এপ্রিল সোমবার বিকাল ৫ টার সময় সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান এই ভুক্তভোগী পরিবার।
বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন, ন্যায়বিচারের দাবি করে আরও বলেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ওয়াসিম তাকে ডেকে নেয়। সেখানে ওয়াসিমের সহযোগী আতাউর, শহীদুল, মিজান ও তুহিন উপস্থিত ছিলেন। তারা আলমগীরকে জানায়, পুলিশের সোর্স নাসির মিয়ার কারণে তাদের মাদক ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর নাসিরকে ফাঁদে ফেলে এনে তার হাত, পা কেটে দেওয়ার পরিকল্পনায় সহযোগিতা করতে বলা হয়।
কিন্তু আলমগীর এতে রাজি না হওয়ায় তাকে ২৩ ফেব্রুয়ারী দেশী ধারালো অস্ত্র দিয়ে, পায়ের রগ কেঁটে দেয় ও মারধর করা হয় এবং পরবর্তীতে প্রাণে মারার হুমকি দেয় সংবাদ সম্মেলনে জানান।
ভুক্তভোগী আলমগীর এর মা বলেন প্রথমে আমার ছেলেকে অনেক মারে, পরবর্তীতে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ওয়াসিম অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের হামলায় আহত হয়। এর জেরে প্রতিশোধ নিতে ওই রাতেই আলমগীরকে একা পেয়ে তার ওপর হামলা চালায় ওয়াসিমের সহযোগীরা। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
হামলার সময় হামলাকারীরা বলে, “নাসিরের ওপর রাগ তোর ওপর দিয়ে গেলাম, সারাজীবনের জন্য তোকে পঙ্গু করে দিলাম।” এ সময় তারা আলমগীরকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয় এবং মামলা করলে হত্যা করারও হুমকি দেয়।
লিখিত অভিযোগে আলমগীর আরও উল্লেখ করেন, এই মাদক চক্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং গাছা এলাকার বিভিন্ন স্থানে তাদের আস্তানা রয়েছে। এর মধ্যে শহীদুলের বাসার দ্বিতীয় তলা, আতাউরের বাংলো এবং ভেঙ্গু পুকুর পাড় উল্লেখযোগ্য।
অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি আগে ‘যুবলীগ’-এর নাম ব্যবহার করলেও বর্তমানে ‘বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা তাদেরকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী।
এছাড়া ওয়াসিম, তার স্ত্রী, মিজান ও তুহিনের মোবাইল কল রেকর্ড তদন্ত করলে মাদক ব্যবসার নেপথ্যের গডফাদারদের চিহ্নিত করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
বর্তমানে পঙ্গুত্ব বরণ করা আলমগীর হোসেন বিচারহীনতার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,
“আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি, যাঁরা এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। আমার মতো আর কারো যেন এই অবস্থা না হয়।”