শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলখালী ইউনিয়নে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই সন্তানের এক জননী। অভিযুক্ত যুবক মো. মাহফুজুর রহমান স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আকনের ছেলে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, বিয়ের মিথ্যা প্রলোভনে তাকে ধর্ষণের পর এখন অস্বীকার করছে মাহফুজ ও তার প্রভাবশালী পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়ার তেলিখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহফুজুর রহমানের সাথে দুই সন্তানের জননী হালিমার দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে হালিমার স্বামী তাকে তালাক দেন। স্বামী হারানোর পর মাহফুজ তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন এবং শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, সম্প্রতি বিয়ের জন্য চাপ দিলে মাহফুজ তালবাহানা শুরু করেন। উপায়ান্তর না দেখে হালিমা বিয়ের দাবিতে মাহফুজের বাড়িতে অবস্থান নেন।
ভুক্তভোগী হালিমা অভিযোগ করেন, তিনি মাহফুজের বাড়িতে গেলে তার ওপর চড়াও হন মাহফুজের পরিবারের সদস্যরা। সেখানে তাকে বেদম মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে ফেলে আসা হয় এবং তার কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত মাহফুজুর রহমানের বাবা জাহাঙ্গীর আকন তেলখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং তার বড় ভাই মিজানুর রহমান একই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। এলাকায় তাদের পরিবারের ব্যাপক প্রভাব থাকায় এবং মাহফুজের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয়দের অনেকেই।
ভুক্তভোগী হালিমা স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে কোন বিচার না পেয়ে রাত দুইটায় ভান্ডারিয়া থানায় শরণাপন্ন হন।সেখান থেকে ভান্ডারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।
এলাকাবাসীর মতে, মাহফুজের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নারীঘটিত অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়ায় তিনি বারবার পার পেয়ে যান বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।