
রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মাড়েয়া আউলিয়াঘাট এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সজীব (১৯) বড়শশী ইউনিয়নের বদেশ্বরী গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে চার বন্ধু মিলে করতোয়া নদীতে গোসলে নামে। শুরুতে তারা অগভীর পানিতে অবস্থান করলেও একপর্যায়ে সজীবসহ আরও একজন অসাবধানতাবশত গভীর পানিতে চলে যায়। সাঁতার না জানায় তারা পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার শুরু করে।তাদের মধ্যে একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও সজীব পানির স্রোতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ সময় নদীর দুই পাড়ে শত শত মানুষের ভিড় জমে যায়। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুর থেকে বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। তারা নদীর বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে প্রায় ৫ ঘণ্টা পর নদীর তলদেশ থেকে সজীবের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নদীতে গোসলের সময় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বিশেষ করে যারা সাঁতার জানে না তাদের নদীতে নামতে নিষেধ করেছেন।উল্লেখ্য, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম বা গরমের সময় নদীতে গোসল করতে নেমে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।