শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী ও শাশুড়ির উপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন চটপটি ব্যবসায়ী হাসান আলী ও তার পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জনতা বাজার এলাকার নুর চৌকিদার বাড়ির বাসিন্দা রাজীব হোসেন, তার বাবা হুমায়ুন কবির, মা আলেয়া বেগম ও বোন জামাই আসলামের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী সোহানা বেগম দাবি করেন, যৌতুকের দাবিতে তাকে ও তার মা হাজেরা বিবিকে মারধর করা হয়। এতে হাজেরা বিবির চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগে। ৬ বছর আগে রাজীবের সাথে ইসলামী শরীয়া সম্মতিতে বিয়ে হয়,দুই বছর ভালোই কেটেছে। আমাদের একজন পু্ত্র সন্তান ও রয়েছে, গত কয়েক বছর থেকে রাজীব সংসারে ভোরন পোষণ খরচ দিচ্ছে না। এতে আমি নিরুপায় হয়ে চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করি ২৫ মার্চ তারিখে লক্ষ্মীপুরে আসলে রাত ১০ টার দিকে আমাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে আমার শোর, চিৎকার করলে আমার মা বাঁধা দিলে মায়ের মাথা ও চোখে আঘাত করে অংঙ্গ হানি করে। আমার স্বামী রাজীব, শশুর হুমায়ুন কবির, শ্বাশুড়ি আলেয়া বেগম। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা আমার মাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে স্থানীয়রা ভর্তি করেন। আমার মা ৪ দিন যাবত ভর্তি ছিল। থানা ৪ জনকে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়েল করি। তিন চার দিন যাবার পর থানা ওসি মামলা না নিয়ে আমাদের ফিরিয়ে দেয়, সমস্যা সমাধানের কথা বলে। মামলা নেয়নি ওসি। আমি ন্যায় বিচার দাবি জানায়। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বিষয়টি অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্টা করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন সোহানা বেগম।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হাসান আলীর নতুন বাড়িতে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত হাজেরা বিবিকে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় গত সোমবার (২৬ মার্চ) লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় চারজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সোহানা বেগম। তবে অভিযোগ করা হলেও চার দিন ধরে মামলা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন সোহানার বাবা হাসান আলী।
ভুক্তভোগী পরিবার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সোমবার লক্ষ্মীপুর মডেল থানার ওসি ওয়াহেদ ফারভেজ বলেন, “দুই পক্ষকে ডেকে এনে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত রাজীব হোসেন ও তার মা আলেয়া বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ঘটনার দিন তাদেরকেই মারধর করা হয়েছে এবং তাদের ছেলেকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে কোন যৌতুক দাবি করা হয়নি।