শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন
খুন, ধর্ষণ ও ছিনতাই অপরাধ বাড়ছে, উদ্বেগ বাড়ছে দেশে
দেশের বিভিন্ন স্থানে সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করেই খুন, নৃশংসতা ও সহিংস ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে বর্তমান সরকার এসে সবকিছু গুছিয়ে নিতে সময় ক্ষেপণ করছে সম্প্রতি যদিও তারা সারাদেশে একটি চাঁদাবাজের লিস্ট করেছে কিন্তু নাম গুলো এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে চাঁদাবাজদের পাশাপাশি দেশব্যাপী মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক সেবীদের একটি লিস্ট সময়ের দাবি । সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ভয়াবহ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকো পার্কে যৌন নির্যাতনের পর শ্বাসনালি কেটে দেওয়া হয় এক মেয়ে শিশুর। গুরুতর আহত অবস্থায় রক্তাক্ত ও অর্ধনগ্ন অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। সোমবার রাতে মারা যায় আট বছর বয়সী ওই শিশু। এর আগে শনিবার পাবনার ঈশ্বরদীতে অপহরণে বাধা দেওয়ায় এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং তার ১৫ বছর বয়সী নাতনিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। একইভাবে বুধবার কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিজ কার্যালয়ে নিহত হন এক শিক্ষিকা।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১৫ দিনে সারা দেশে প্রায় অর্ধশত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে তিনজনকে। সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১০ নারী ও কন্যাশিশু এবং মোট ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৪৫টি, যার মধ্যে ৫২ শতাংশ ভুক্তভোগী শিশু ও কিশোরী। এ ছাড়া সারা দেশে ২৩৬ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পারিবারিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৪১ নারী এবং রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ গেছে ১০ জনের, আহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৩৩ জন।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, নৈতিকতার অবক্ষয় রোধে সমাজের সব স্তরের উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে খুন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সারা দেশে ছিনতাইয়ের ঘটনাও বাড়ছে। দিনদুপুরেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ছিনতাইকারীরা মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার বা মোটরসাইকেল ব্যবহার করছে। গত ৩ মার্চ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট মহাসড়কে পুলিশের পোশাক পরে এক চালককে মারধর করে ইজিবাইক ছিনতাই করা হয় এবং এক যাত্রীর কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সিলেট ও ঢাকাতেও সম্প্রতি ছিনতাইয়ের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বেশির ভাগ ছিনতাইকারী নেশাগ্রস্ত এবং নেশার অর্থ জোগাতে তারা অপরাধের পথ বেছে নেয়। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনা কমাতে সামাজিক নজরদারি বাড়ানো এবং বিপদে একে অন্যের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
ড. তৌহিদুল হক দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, ছিনতাইকে এখনো অনেক ক্ষেত্রে বড় অপরাধ হিসেবে দেখা হয় না। গ্রেপ্তারের পর অনেকেই দ্রুত জামিনে বের হয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় ছিনতাইয়ের হার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এ সময় ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় মোট ৩০৮টি ছিনতাইয়ের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে চেকপোস্ট, ফুট প্যাট্রলিং ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। শপিং মল, মার্কেট এবং বইমেলাকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি সব জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক ভার্চুয়াল সভায় পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।