শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন
দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের রক্তস্নাত শাসনামল অতিক্রম করে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ত্যাগে ভাস্বর হয়ে, দুই দশক পর আমরা পেয়েছি একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। এক মাসের পবিত্র সিয়াম সাধনার পর এসেছে আনন্দের ঈদ, আর এবারের ঈদ জাতীয়তাবাদী শক্তির জন্য এক অনন্য সুখের বার্তা বয়ে এনেছে। এই ঈদে আমরা আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি, যা আমাদের আকাঙ্খাকে পূর্ণতা দিয়েছে।
তবে সরকার গঠনের এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে, বিএনপিকে লড়াই-সংগ্রামের লম্বা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মী ও তাঁদের পরিবারের ত্যাগ, রক্ত, ঘাম ও শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে আছে আজকের এই অর্জন। মামলা-হামলা, গুম-খুন, আঘাত ও কারাবাসসহ নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ৬০ লক্ষ নেতাকর্মী।
দেশজুড়ে তৃণমূলের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরন্তর সংগ্রামের ফলেই সম্ভব হয়েছে গণতন্ত্রের বিজয়; আমরা পেয়েছি ধানের শীষের বিজয়। তবে এই বিজয়ের পেছনে রয়েছে অসংখ্য বেদনার গল্প। অনেকেই জীবন দিয়েছেন, বিজয় দেখে যেতে পারেননি; আবার অনেকে সব হারিয়ে আজ নিঃস্ব ও রিক্ত।
বহুমাত্রিক আবেগের এই দিনে, আমাদের প্রিয় নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। তাঁর প্রাণপ্রিয় সন্তানকে জনগণের বিপুল সমর্থনে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে দেখতে পেয়ে, তিনি নিশ্চয়ই গর্বিত ও আবেগাপ্লুত হতেন।
সরকার গঠনের পর বিএনপির অনেকেই মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, এমপি ও প্রশাসকসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে এখনো অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণতন্ত্রকামী সাহসী মানুষ রয়েছেন, যাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন ও ক্ষমতায়ন প্রয়োজন। নির্বাচনের এক মাসের ভেতর বাস্তবিকভাবেই সেটি সম্ভব হয়নি, শুরু হয়নি সাংগঠনিক মূল্যায়ন। তবে যোগ্যতার ভিত্তিতে সঠিক মানুষকে সঠিক জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া গেলে, দেশ ও জনগণ উভয়ই উপকৃত হবে।
দেশের জনপ্রিয়তম নেতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ ও দল এগিয়ে যাচ্ছে দৃঢ়তার সঙ্গে। আমরা বিশ্বাস করি, এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে, ত্যাগীরা তাঁদের প্রাপ্য স্বীকৃতি পাবেন, তৃণমূলের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে, এবং আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলবো একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ।