
কুমিল্লায় পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ঝিনাইদহের একই পরিবারের ৩ (তিন)জন সহ৪(চার) জন নিহত হয়েছে।
নিহত করা হলেন ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬),ও তাদের ২ (দুই) মেয়ে খাদিজা (৮)ও মরিয়ম (৪) ও সদর উপজেলার পানামি গ্রামের মুক্তার বিশ্বাসের ছেলে জোয়াদ বিশ্বাস (২৬)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন বিকেলে পিন্টু মিয়ার স্ত্রী ও ২ (দুই) সন্তান কুমিল্লায় লাইজু আক্তারের বাবার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেন।
পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রেন যাত্রীবাহী বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তারা নিহত হন।
মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের বাসিন্দা শাহাজাহান জানান, পিন্টু তার ভাইপো। ছোটবেলায় পিন্টুর মা মারা গেলে তাকে তার বাবা-মা লালন-পালন করেন। পরে পিন্টু ঢাকায় মামার বাড়িতে চলে যান।
তিনি বলেন, ‘‘ঈদের আগে পিন্টু আমাকে ফোন করে জানায় সে ঢাকায় থাকে। সংসার চালাতে বর্তমানে তার কষ্ট হচ্ছে। আমি তাকে বলি, আমাদের বাড়িতে চলে আসতে। পরে সে ঈদের আগেই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসে। ঈদের দিন বউমা আমাকে বলে কাকা, ‘আমি বাবার বাড়িতে দেড় বছর যাই না। একটু কয়েক দিনের জন্য ঘুরে আসি।”
পরে বিকালে পিন্টু স্ত্রী ও ২ (দুই) সন্তানকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন। ঢাকায় গিয়ে গাড়ি থেকে পিন্টু নেমে যান এবং তাদের জানান, তিনি কাজ সেরে রাতে যাবেন।
‘আজ সকালে ফোনে জানতে পারি দুর্ঘটনায় আমার ভাইপোর স্ত্রী ও ২(দুই) সন্তান মারা গেছে,’ বলেন শাহাজাহান।
তিনি জানান, নিহতদের লাশ কুমিল্লাতেই দাফন করা হবে।
অন্যদিকে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পানামি গ্রামের বাসিন্দা রমজান জানান, তার চাচাতো ভাই জোয়াদ বিশ্বাস ঝিনাইদহ শহরে মাংসের ব্যবসা করতেন। তার স্ত্রী নোয়াখালীর বাসিন্দা।
ঈদের আগে থেকেই তার স্ত্রী ও সন্তান নোয়াখালীতে অবস্থান করছিলেন। ঈদের দিন সন্ধ্যায় জোয়াদ বিশ্বাস শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে ওই বাসে রওনা দেন। সকালে তার মোবাইল ফোন থেকে একজন ফোন করে জানান, বাস-ট্রেন দুর্ঘটনায় জোয়াদ মারা গেছেন।