শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন
নাগেশ্বরী উপজেলা ভূমি অফিসে ই-নামজারি (মিউটেশন) সেবা নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি করার কথা থাকলেও, এখানে সময় লাগছে ৬০ থেকে ৮০ দিন। তুচ্ছ অজুহাতে আবেদন বাতিল এবং শুনানিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগে ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুজ্জামান রিশাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের দাবি, ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। টাকা না দিলে তুচ্ছ ত্রুটি দেখিয়ে নথি আটকে রাখা হয় অথবা আবেদন সরাসরি নামঞ্জুর করে দেওয়া হয়।
২৮ দিনের কাজ সম্পন্ন করতে ৮০ দিন পর্যন্ত সময় নেওয়া হচ্ছে।ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও তারা ১৫-২০ দিন ফাইল আটকে রাখছেন।
সোনাহাট মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ই-নামজারি জটিলতার কারণে থমকে আছে।
অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে অভিযোগ দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে আব্দুল গণী, মজিবুল ইসলাম ও আব্দুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন সেবাগ্রহীতা কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী আব্দুর রহমান বলেন, “আমরা দিনের পর দিন ঘুরছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। শুনানিতে আমাদের কথা বলার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয় না।”
স্থানীয়দের মতে, নামজারি সম্পন্ন না হওয়ায় জমি কেনাবেচায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এতে সরকার একদিকে বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ধীরগতি সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সাধারণ মানুষের দাবি, এই অনিয়মের দ্রুত প্রতিকার করে ভূমি অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করা হোক।