শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন
অফিস শেষে বাড়ির পথে মানুষ
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। তবে এবারের ঈদযাত্রার শুরুটা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। সড়ক, নৌ ও রেলপথে এখনো তেমন ভিড় না থাকায় অনেকেই নির্বিঘেœ নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন। সরকারি অফিস ও গার্মেন্টস খোলা থাকায় বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীর চাপ কম রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ঈদের ছুটি শুরু হলে যাত্রীচাপ হঠাৎ করেই বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।ঈদের ছুটি শুরুর আগে সারাদেশে সরকারি, আধা সরকারি অফিস-আদালতের কার্যদিবস শেষ হয় গতকাল সোমবার। আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে সাতদিনের টানা ছুটি। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে সোমবার অফিস শেষ করেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকে। ঢাকার পথে পথে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের তেমনই চিত্র দেখা গেছে। এতে দুপুর থেকে রাজধানীর প্রায় সব সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।জানা গেছে, রাজধানীর শাহবাগ, ধানমন্ডি, পল্টন, ফার্মগেট, মিরপুর রোড, শ্যামলী, উত্তরা, মহাখালী, বনানী, রামপুরা, বাড্ডা ও মালিবাগ এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যালগুলো দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকছে। অনেক জায়গায় সিগন্যাল ছাড়লেও ধীরগতির কারণে গাড়ি এগোতে পারছে না। রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালগুলোতে দুপুর থেকেই যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই আগেভাগে এসে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।গাবতলী বাস টার্মিনালের একজন কাউন্টার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ছুটি উপলক্ষে সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলার টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। সন্ধ্যার পর যাত্রীচাপ আরও বাড়তে পারে। দূরপাল্লার বাসগুলো সময় মতো টার্মিনাল ছেড়ে গেলেও ঢাকা থেকে বের হতে কিছুটা সময় বেশি লাগছে। আবার যানজটের কারণে ঢাকায় প্রবেশের পর টার্মিনালে পৌঁছুতেও বাসগুলোর বেশ সময় লাগছে।
সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালেও ঘরমুখো যাত্রীদের বেশ ভিড় দেখা গেছে। মহাখালী থেকে উত্তরা সড়কে দুপুর থেকেই তীব্র যানজটের চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। নগরীর ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের ছুটির কারণে আজ সোমবার থেকেই অনেক মানুষ একসঙ্গে ঢাকা ছাড়ছেন। এ কারণে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোমবার ইফতার শেষে সন্ধ্যার পর বেশি মানুষ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এতে রাজধানীজুড়ে যানজট আরও তীব্র হয়ে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাফিক পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি। এর পরদিন ১৮ মার্চ ছুটি হওয়ার ফলে এবার ঈদ উপলক্ষে টানা সাতদিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরিজীবীরা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ নিরলস কাজ করছে, যেন যানবাহন দ্রুত চলাচল করতে পারে।
এদিকে, অনলাইনে টিকিট প্রাপ্তিতে কিছুটা জটিলতার বিষয়টি বাদ দিলে এবারের ঈদযাত্রায় রেলপথে বড় কোনো ভোগান্তি নেই। বিশেষ কোনো ঝামেলা ছাড়াই হাসি মুখে ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। সময়মতো ট্রেন ছেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। সোমবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, নাড়ির টানে বাড়িমুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড়। স্টেশনে প্রবেশে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে প্রত্যেকের টিকিট যাচাই করে তবেই প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ কারণ ছাড়া টিকিটবিহীন কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না রেল কর্তৃপক্ষ।
বেসরকারি এক চাকরিজীবী বলেন, অনলাইনে টিকিট কাটায় এবারের ঈদযাত্রা বেশ আরামদায়ক হচ্ছে। স্টেশনেও তেমন বিশৃঙ্খলা বা অনাকাক্সিক্ষত ভিড় নেই, তাই ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রা শুরু করতে পারছি। এসি কোচের টিকিট কাটতে চাইলেও তা পাইনি। পরে শোভন চেয়ারের টিকিট পেয়েছি। তবে সার্বিকভাবে এবার কোনো ভোগান্তি নেই।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, নীলসাগর এক্সপ্রেস আধা ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়লেও বাকি সব ট্রেন সময়মতো ছেড়ে গেছে। আমরা যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, আশা করছি তাতে যাত্রীরা ভোগান্তিহীন একটি ঈদযাত্রা উপভোগ করতে পারবেন।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ, নির্বিঘœ করতে ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসময় শেখ রবিউল আলম বলেন, যাত্রীরা নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে যাতায়াত করতে পারছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে মোবাইল কোর্ট ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং তিনি আরও বলেন, কেউ নিয়ম ভাঙলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের সরবরাহ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে মনিটরিং চলছে, যাতে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হয়।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশকে নিরাপদ, আধুনিক ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে। সড়ক পরিবহন খাতে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দুর্ঘটনামুক্ত নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা। সড়কখাতে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে পরিবহন ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মানুষের জন্য সহজলভ্য করা হবে। একই সঙ্গে সড়ক, রেল ও নৌপথ এই তিন ধরনের পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। যেখানে সড়কপথে যাতায়াত সহজ সেখানে সড়ককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে; যেখানে রেলপথে যাতায়াত দ্রুত ও সুবিধাজনক সেখানে রেলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং আর যেখানে বিকল্প নেই সেখানে নৌপথকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ ও কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। ঈদকে সামনে রেখে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন, পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেছে। যাতে যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়ায় নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন এবং সড়কে যানজট কম থাকে।