শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন
শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, রমজান মাস আমাদের আত্মসংযম, ধৈর্য এবং আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয় ঈদ শিখায় ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধন
লোকমান হোসেন :
ঈদের বার্তা —দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন
পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য এক মহিমান্বিত আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এই দিনটি মানুষের জীবনে নিয়ে আসে আত্মশুদ্ধি, সংযম, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনন্য শিক্ষা। রমজানের কঠোর সাধনার মধ্য দিয়ে মানুষ যে নৈতিকতা, ধৈর্য ও মানবিকতার শিক্ষা অর্জন করে, ঈদুল ফিতর সেই শিক্ষাকে সমাজজীবনে বাস্তবায়নের এক অনন্য উপলক্ষ।পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন বিশিষ্ট গণমাধ্যম কর্মী, জাতীয় দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সমাজের বাস্তব চিত্র এবং সত্যকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।নিজের শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, “রমজান মাস আমাদের আত্মসংযম, ধৈর্য এবং আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। এই মাসে মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগ ও সংযমের মাধ্যমে নিজেদের পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করে। সেই সাধনার পর ঈদুল ফিতর আমাদের জন্য আসে আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও মানবিকতার বার্তা নিয়ে। ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো—একজন মানুষ আরেকজন মানুষের পাশে দাঁড়াবে, সমাজে ন্যায় ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা করবে।”
তিনি আরও বলেন, আজকের পৃথিবীতে যখন নানাভাবে বিভাজন, বৈষম্য ও সংকট মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে, তখন ঈদের শিক্ষা আমাদের নতুন করে ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহমর্মিতার পথে আহ্বান জানায়। সমাজের ধনী-গরিব, সুবিধাভোগী-বঞ্চিত সকল মানুষের মধ্যে সমতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ঈদের অন্যতম লক্ষ্য। তাই ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মুখেও হাসি ফুটে ওঠে।
সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন শিক্ষিত ও আলোকিত পরিবারে বেড়ে ওঠা মানুষ। তিনি দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রামের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রাক্তন মেধাবী ছাত্র। ব্যাচেলর অফ সায়েন্স সম্পূর্ণ করে তিনি ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া বাংলাদেশ থেকে মাস্টার অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিউম্যান রাইটসের উপর পিএইচডি সম্পূর্ণ করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন । তার শিক্ষা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কেটেছে চট্টগ্রাম জেলার তথা বাংলাদেশের স্বনামধন্য পি এইচ আমিন একাডেমিতে – যেখানে তিনি একজন কৃতী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সমাজ, রাজনীতি ও মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়ে কাজ করে সকলের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি হালিশহর ফুটবল ফেডারেশনের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন তিনি স্বনামধন্য কোচ আলী ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে ফুটবল খেলতেন, তিনি আলোশিড়ি ক্লাবের পক্ষ হয়ে অনূর্ধ্ব ১৬ ফুটবলে অংশগ্রহণ করেন। তার সংরক্ষণে রয়েছে শত শত দেশের দুর্লভ ডাক টিকিট এন্ট্রিক্স, এবং হাজার হাজার বই। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর সফরের অংশ হিসেবে এয়ারপোর্ট সংলগ্ন কক্সবাজারে একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুল পরিদর্শনকালিন ছাত্র জীবনে পুরস্কৃত হন । পরবর্তী জীবনে তিনি শেরেবাংলা একে ফজলুল হক ফাউন্ডেশন কর্তৃক পুরস্কৃত হন এবং বিভিন্ন সময় তার লেখা সাহিত্য এবং অন্যান্য গুণাবলীর জন্য শত শত পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ১৭ আসনে নির্বাচন মিডিয়া উপকমিটি এর টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । একজন লেখক কলামিস্ট হিসেবে রয়েছে তার যথেষ্ট সুনাম। ২০১৪ সালে একুশে বইমেলায় তার লেখা বইয়ের জন্য মেলা কর্তৃপক্ষ তাকে পুরস্কৃত করেন। তার লেখা শের ই গুলিস্তান এবং ফিফটি-ফিফটি ইয়ার্স সহ পুরুষ নির্যাতন আইন চাই শীর্ষক লেখা এবং স্বাধীনতার উপর লেখা ও কবিতা সর্বস্তরে প্রশংসা কুড়িয়েছে । তিনি হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়েছেন অনেক সাংবাদিককে যারা এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকতার পেশায় থেকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে দেশ ও জাতির সেবা করছেন।
একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি পবিত্র রমজান মাসের এই শেষ দিকে এসে ঈদকে সামনে রেখে তার মূল্যবান কথা বলেন
ঈদ সব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে বুকে জড়ানোর দিন, সাম্য, সৌহার্দ্য, ভালোবাসা, মিলনের দিন পবিত্র ঈদ উল ফিতর। ঈদ অঙ্গীকারেরও উৎসব। আত্মিক পরিশুদ্ধির ফলে দূর হয়ে যাবে সব সংকীর্ণতা ও ভেদাভেদ। অন্যায়, অবিচার, ঘৃণা, বিদ্বেষ, হিংসা, হানাহানি-মানুষের সব নেতিবাচক প্রবণতার রাশ টেনে ধরবে ঈদ। ঈদ যে আনন্দের বার্তা বয়ে এনেছে, তার মর্মমূলে আছে শান্তি ও ভালোবাসা। পরস্পরের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হয়ে ওঠার এক মহান উপলক্ষ ঈদ।
ঈদ আগমনী সুরে বেজে চলেছে মানুষে মানুষে মিলনের এই আকুতি। তাই মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ সব ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের প্রতিবেশীদের নিয়ে তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব বরণের জন্য প্রস্তুত। ঈদ উৎসব উদযাপনের জন্য বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহর থেকে পরিবার-পরিজনসহ গ্রামের বাড়ি যান। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরে পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ উল্লাস করে ঈদ উদযাপন করেন।
ঈদ শেষে সবাই আবার ফিরে নিজ কর্মস্থলে। তাই সবার জীবনে ঈদ নিয়ে আসুক সমৃদ্ধি, ভালোবাসা ও প্রেম। সবার চলার পথ হোক নিরাপদ। আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই, পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।