শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন
উত্তরের জনপদ গাইবান্ধায় চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। টানা কয়েক বছর ধরে ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় চলতি মৌসুমেও ব্যাপক পরিমাণে গম চাষাবাদ করেছেন এ জেলার কৃষকরা।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ও চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গিয়েছে বিঘার পর বিঘাজুড়ে গমের ক্ষেত। এখন মাঠে মাঠে বাতাসে দুলছে কৃষকের স্বপ্নের কাঁচা পাকা সোনালি গম।
গাইবান্ধা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গতবছর জেলার সাতটি উপজেলায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ১৬২ হেক্টর। এর মধ্যে উৎপাদন হয়েছিল ১১হাজার ৪৭৮ মেট্রিক টন। এবছর জেলায় গম চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ১৬৫ হেক্টর। এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ২৭৮ হেক্টর। সম্ভাব্য উৎপাদন ১১হাজার ৮৯৯ মেট্রিক টন।
গম চাষে আগ্রহ বাড়াতে কৃষকদের কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে বীজ ও সার। এ মৌসুমে জেলা জুড়ে বেশির ভাগ জমিতে বারি-৩৩ জাতের গমের চাষ হয়েছে।
কথা হয় সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কাজলডোপ এলাকার গমচাষী মনজুরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, কৃষি অফিস থেকে যে সার বীজ পেয়েছি এবং কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী কয়েক বিঘা জমিতে এবার গম চাষ করেছি। এবার গমের ফলন বাম্পার হয়েছে। দাম ভালো পাওয়া গেলে পরের বছর আরো বেশি করে চাষ করবো।
আরেক গমচাষী সাইফুল ও নুরুল ইসলাম বলেন, গেল কয়েক বছরের তুলনায় এবছর গমের ফলন ভালো হয়েছে। এবছর দাম ভালো পেলে পরবর্তী বছর থেকে আরো বেশি করে গম চাষাবাদ করবো।
এ ব্যাপারে নারায়নপুর ব্লকের দায়িত্বে থাকা ও বল্লমঝাড় ব্লকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী বলেন, ‘উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্যারের পরামর্শ অনুযায়ী আমার ব্লকে এ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা হিসেবে ২০ জন কৃষককে বিনামূল্যে সার ও গম বীজ দেয়া হয়েছে। তাদের সকলেরই গম অত্যন্ত খুবই ভালো হয়েছে। গম চাষাবাদ থেকে শুরু করে ফসল কাটা পর্যন্ত সকল কৃষককেই সকল বিষয়ে আমি নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে এসেছি। এ মৌসুমে গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। আশা করা করা যাচ্ছে প্রতি বিঘায় ১২-১৪ মণ গম পাওয়া যাবে।’
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম ভোরের আকাশকে বলেন, ‘কৃষকরা যেহেতু ফলন ও দাম ভাল পাচ্ছে, এজন্য প্রতি বছরই গম চাষে আগ্রহী হচ্ছে তারা। গম চাষে আগ্রহ বাড়াতে কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। আমাদের মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা গম চাষ বাড়াতে কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।