শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
ঝিনাইদহ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পাম্পশ্রমিকদের হামলায় নীরব হোসেন (২২) নামের এক যুবক মারা গেছেন। শনিবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নীরব হোসেন কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের আলিমুর বিশ্বাসের ছেলে এবং ঝিনাইদহ শহরের বকুলতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তবে তাঁর পেশাসম্পর্কিত বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
এ ঘটনায় পাম্পশ্রমিক নাছিম হোসেন, রমিজুল ইসলাম, দাউদকে আটক করেছে র্যাব-৬।
নিহতের বন্ধুরা জানান, শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে রাতে মোটরসাইকেলে তেল নিতে যান নীরব হোসেন ও তাঁর এক বন্ধু। তখন পাম্পশ্রমিকেরা বলেন, তেল নেই। পাম্প বন্ধ আছে। পরে অন্য পাম্পে গিয়ে তেল না পেয়ে তারা ফেরার সময় দেখেন, ওই পাম্পে বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছে।
তখন তাঁরা শ্রমিকদের বলেন, আপনারা আমাদের তেল দিলেন না, এখন আবার বোতলে বিক্রি করছেন। এ নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পাম্পশ্রমিকেরা নীরব হোসেনকে মারপিট করেন। তখন তিনি বাসায় ফিরে গিয়ে অসুস্থতা বোধ করলে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১০ টার দিকে নীরবকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বন্ধু আশিক বলেন, ‘আমাদের তেল না দিয়ে কেন বোতলে তেল স্টক করছেন, এমন কথা বলতেই পাম্পের লোকজন খেপে যান। তখন পাম্পের শ্রমিকেরা নীরবকে লাঠি দিয়ে মারপিট করেন। এরপর হাসপাতালে নিলে সে মারা যায়। আমরা চাই নীরব হত্যায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সব্যসাচী পাল সুমন বলেন, হাসপাতালে আসার কয়েক মিনিট পর নীরবের মৃত্যু হয়। তিনি মারপিটের হিস্ট্রি নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। আঘাতের কয়েকটি চিহ্ন রয়েছে। যেমন কানের নিচে এবং মাথার পেছনে। হতে পারে, ওই আঘাতে অভ্যন্তরীন কোনো কারণে তাঁর মৃত্যূ হয়েছে।
ঝিনাইদহ র্যাব-৬-এর কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বলেন, তেল নিতে এলে পাম্পের লোকদের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এরপর যে যুবক তেল নিতে আসছিলেন, তিনি হাসপাতালে যাওয়ার পর মারা যান। এ ঘটনার পর পাম্পের তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছি। বাকিটা তদন্ত করে বলা যাবে।
এ ঘটনায় পাম্পমালিক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমি ঢাকায় রয়েছি। পাম্পে একটি ঘটনা ঘটেছে, বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে কী নিয়ে ঘটনা, তা জানতে পারিনি।’