শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন
রাজধানীতে ব্যবসায়ীকে অপহরণ: নগদ টাকা ও দলিলসহ কোটি টাকা লুট
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. জাহিদুল ইসলাম এবং তার পরিবার এক ভয়াবহ অপহরণ ও লুটের শিকার হয়েছেন। দুই দফায় চালানো এই হামলায় সন্ত্রাসীরা নগদ ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ১২টি ব্যাংক চেক, জমির মূল দলিল, পাসপোর্ট এবং স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরসহ কয়েক কোটি টাকার সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রথম দফার হামলা: অফিস কক্ষে জিম্মি
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫। দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ঢাকা উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের ৮ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাড়িতে জাহিদুল ইসলামের অফিসে হামলা চালায় আজিজুল (২৫), ইনজামাম, সাগর ও শাহজাহান। সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে:নগদ ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রংতুলি মিডিয়ার নামে থাকা ইউসিবি ব্যাংকের ৬টি চেক। ১০০ টাকার ৬ টা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ।
দ্বিতীয় দফায় পান্থপথে ১৮ সেপ্টেম্বর জাহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সামিনা আক্তার এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে পান্থপথ এলাকায় যান। সেখানে জাহিদুল ইসলাম একটি এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে বের হওয়ার সময় আব্দুল আজিজ, ইনজামাম, সাগর, রায়হান ও শাহজাহান, মাহবুবর রহমান অরফে মিলন চিশতি, ইমরান হোসেন রাজিব সহ অজ্ঞাত ১০-১২ জন সন্ত্রাসী তাদের ঘিরে ফেলে।
সন্ত্রাসীরা তাদের জোরপূর্বক অপহরণ করে প্রথমে একটি রেস্টুরেন্টে এবং পরে একটি অজ্ঞাত ভবনের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা কক্ষে আটকে রেখে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অসুস্থ বৃদ্ধ পিতাকেও ছাড় দেয়নি সন্ত্রাসীরা
নির্যাতনের একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা জাহিদুল ইসলামের ষাটোর্ধ্ব অসুস্থ বাবাকে নগদ টাকা ও জমির দলিলসহ আসতে বাধ্য করে। একা চলতে অক্ষম বৃদ্ধ বাবা তার এক বন্ধুকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাদেরও জিম্মি করে ফেলে। সারারাত চারজনের ওপর চলে পাশবিক নির্যাতন।
সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নিম্নলিখিত মালামাল ও নথিপত্র জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়:ব্যাংক চেক: এনআরবি ব্যাংকের ২টি, ইসলামী ব্যাংকের ২টি এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৪টি চেক।জমির দলিল: জাহিদুল ইসলামের স্ত্রীর নামে থাকা দুটি মূল দলিল (নং ৬৫৯৯ ও ৪৫৯৭), যার মোট পরিমাণ ৩৫ শতাংশ।ব্যক্তিগত নথি: জাহিদুল ইসলামের মূল পাসপোর্ট, এনআইডি কার্ড এবং ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স। স্ট্যাম্প: ১০০ টাকার আরও ৬টি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর।
পরদিন সকালে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও সন্ত্রাসীরা চরম হুমকি প্রদান করে। অভিযুক্তরা দাবি করে, “প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণে”, তাই মামলা বা অভিযোগ করে কোনো লাভ হবে না। এছাড়া তাদের দাবি করা মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে পুরো পরিবারকে হত্যা করা হবে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে জাহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে প্রতিনিয়ত কল করা হচ্ছে।বর্তমানে এই ব্যবসায়ী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।