
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় শ্বাশুড়ি দূর্গা রানী বিশ্বাসকে (৬০) মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে নিজ মেয়ের জামাই সুমন মজুমদারের বিরেুদ্ধে। এ ছাড়া স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে নবাবগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শ্বশুড় জিতেন বিশ্বাস। এছাড়াও এর আগে মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ দিয়েছেন তারা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে যন্ত্রাইল ইউনিয়নের নবগ্রাম গ্রামের মৃত হারাধন মজুমদারের ছেলে সুমন মজুমদারের (৪৫) সঙ্গে নয়নশ্রী ইউনিয়নের সাপলেজা গ্রামের জিতেন বিশ্বাসের মেয়ে কবিতা বিশ্বাসের (৩৮) বিয়ে হয়। বিয়ের পর মেয়ের জামাইকে বিভিন্ন সময়ে টাকাসহ আট ভরি স্বর্ণালংকার, চারটি গরু এবং বিভিন্ন ধরণের ফার্ণিচার দেন শ্বশুড় জিতেন। তারপরও শ্বশুড়বাড়ি থেকে আরও টাকা এনে দেওয়ার জন্য সুমন প্রায়ই তার স্ত্রীকে মারধর করতো। টাকা না দিলেই সুমন শ্বশুড়বাড়ির লোকজনকে নানাভাবে হুমকি দিতো। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার শালিস করা হলেও এখনও সুমনের আচরণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গেলো মাসের শেষের দিন সকালে পাদ্রীকান্দা মাঠে সুমন তার শ্বাশুড়ি দুর্গাকে একা পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকলে শ্বাশুড়ী এর প্রতিবাদ করলে সুমন তাকে এলোপাথারী মারধর করে আহত করে। এ ঘটনায় দুর্গা রানী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভর্তি করা হয় নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
শ্বাশুড়ির উপর মেয়ের জামাইয়ের এমন বর্বর হামালার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষী মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তার শাস্তির দাবি করেন পাদ্রীকান্দা ও সাপলেজা এলাকার বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমনের সঙ্গে কথা বলতে তার বাড়িতে গেলে প্রথমে তার মা বলেন, মায়ের মতো শ্বাশুড়ির গায়ে যদি সুমন হাত তুলে থাকে এটা খুব খারাপ করেছে। এছাড়াও তিনি আরও নানা কথা তুলে ধরেন।
তবে অভিযুক্ত সুমন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি আমার শ্বাশুড়িকে মারধর করিনি।আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে সব সাজানো, মিথ্যা ও বানোয়াট।
এ ঘটনায় অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন নবাবগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আনোয়ার আলম আজাদ।