শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন
বাগেরহাটের শরণখোলায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামাত কর্মিদের হামলায়
জাতীয়তাবাদি ছাত্র দল কর্মী মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফুল ইসলাম মাসুম (২৬)
নিহত হয়েছে। রবিবার (০১ মার্চ) রাত সাড়ে দশটার দিকে শরণখোলা উপজেলার
খুড়িয়াখালী গ্রামে মডেল বাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম
উপজেলার খুড়িয়াখালি গ্রামের মৃত: আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে। ইউনিয়ন
ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলো। চলতি সপ্তাহে তার কর্মস্থল মালয়েশিয়া যাবার
সকল প্রস্তুতিশেষ করেছে, এরই মধ্যে প্রতিহিংসার জেরে প্রাণ দিতে হয়েছে।
তবে এ হত্যা কাণ্ডের ঘটনায় জামায়াত কর্মীদের দায়ী করেছেন স্বজনরা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আরিফুল ইসলাম মাসুম রাত আটটার দিকে শ্বশুরবাড়ি
থেকে খাবার খেয়ে বাড়ি ফিরছিল পথিমধ্যে স্থানীয় জামাতকর্মী আফজাল
বয়াতি ও বারেক শরীফের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ তাকে গতিরোধ
করে মারধর করে।
সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম লিটন বলেন তারাবির নামাজের
পরে মাসুমকে জামায়াতের কর্মীরা মারধর করে আটকে রেখেছে এমন খবর পাই। পরে
স্থানীয় তাফালবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও স্থানীয় সাউথখালী ইউনিয়ন
জামায়াতের নেতাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে যাওয়ার পর অসুস্থ
অবস্থায় মাসুমকে দুই -তিন ধরে নিয়ে আমাদের কাছে নিয়ে আসে। তার কাছে
ঘটনা জানতে চাইলে হঠাৎ বমি করে। তাৎক্ষণিক শরনখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এক পর্যায়ে তাকে ডাক্তার মৃত
ঘোষণা করে।
তিনি আরো বলেন নির্বাচনের পূর্বে ও পরবর্তীতে ওই এলাকায় এদের মধ্যে
উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুই দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। জামায়াত ও বিএনপি’র
উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়। ওই ঘটনার জের ধরে জামায়েত কর্মীরা মাসুমকে
ধরে মারধর করে। তিনি এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা
নেওয়ার দাবি জানান।
শরণখোলা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সামিনুল হক জানান, একটি হামলার
খবর জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
অবস্থায় রফিকুল ইসলাম মাসুম নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসী মারা গেছে।
সোমবার বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।
মায়াতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। তবে নিহতের পরিবার
ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত
নেমেছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘটনের মধ্য দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে
জানান তিনি।##